আক্বিদা

রাসূল স: কি আল্লাহ তায়ালাকে দেখেছেন?

ইজহারুল ইসলাম শুক্র, 10 সেপ্টে., 2021
23

আল্লাহর রাসূল স. মেরাজে গিয়ে আল্লাহকে দেখেছেন কি না এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। ইসলামের শুরু থেকে অদ্যাবধি বিষয়টি মতবিরোধপূর্ণ। এক পক্ষের দলিল নিয়ে অন্য পক্ষকে মিথ্যুক, বাতিল বা অন্য কোন অপবাদ দেয়ার অর্থ হলো সাহাবায়ে কেরামকে এসব অপবাদ দেয়া নাউযুবিল্লাহ। এজাতীয় একমুখী অধ্যয়ন ও তার প্রচারের পরিণতি ভয়াবহ। বিষয়টিও অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

আল্লাহকে দেখার বিষয়ে মতবিরোধ:

আলেমগণ আল্লাহকে দেখার বিষয়টি দু’ভাগে বিভক্ত করেছেন।

১. চর্মচোখে আল্লাহকে দেখা।

২. অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহকে দেখা।

কিছু আলেম প্রথমটাকে সমর্থন করেছেন। কিছু আলেম দ্বিতীয়টাকে গ্রহণ করেছেন। সুতরাং যারা আল্লাহকে দেখার পক্ষে মতামত দিয়েছেন, তারা এই দু’টো মতের যে কোন একটা গ্রহণ করেছেন।

তৃতীয় মত:

আল্লাহকে দেখার ক্ষেত্রে তৃতীয় মতটি হলো, মে’রাজে আল্লাহর রাসূল স. আল্লাহকে দেখেছেন কি না, এই বিষয়ে দুপক্ষেরই দলিল রয়েছে। যারা দেখার পক্ষে রয়েছেন, তাদেরও দলিল আছে, আবার যারা না দেখার পক্ষে তাদেরও দলিল রয়েছে। এজন্য একদল আলেম এ বিষয়ে কোন প্রকার সিদ্ধান্ত দেয়া থেকে বিরত থেকেছেন। তাদের মতে বিষয়টি আল্লাহ তায়ালা ভালো জানেন।

চতুর্থ মত:

আল্লাহর রাসূল স. আল্লাহকে দেখেননি। চর্মচক্ষু বা অন্তরচক্ষু কোনভাবেই দেখেননি। এই মতটি খুবই সামান্য সংখ্যক লোকের বক্তব্য।

পন্চম মত:

অনেক আলেম আল্লাহ তায়ালাকে দেখা বা না দেখার সবগুলো দলিল পর্যালোচনা করে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন। তাদের মতে যারা আল্লাহ তায়ালার দেখার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, তারা মুলত: চর্মচোখের দেখাকে অস্বীকার করেছেন। আর যারা আল্লাহর দেখার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তারা অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহকে দেখার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এভাবে উভয় পক্ষের দলিল মাঝে সমন্বয় করা সম্ভব।

যারা সাধারণভাবে আল্লাহর দেখার মত গ্রহণ করেছেন:

সাহাবীদের মধ্যে হযরত ইবনে আব্বাস রা, হযরত আনাস রা. ও হযরত আবু হুরাইরা রা. এ মতটি গ্রহণ করেছেন।

তাদের দলিল:

দলিল-১:

সহীহ বুখারী শরীফে হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে এ সংক্রান্ত বর্ণনা সংকলিত হয়েছে । উক্ত হাদীসের এক অংশে বর্ণিত হয় –

حَتَّى جَاءَ سِدْرَةَ المُنْتَهَى، وَدَنَا لِلْجَبَّارِ رَبِّ العِزَّةِ، فَتَدَلَّى حَتَّى كَانَ مِنْهُ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى

অবশেষে হুযুর করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সিদরাতুল মুনতাহায়” আগমন করলেন। এখানে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিকটবর্তী হলেন । অতি নিকটবর্তী হওয়ার ফলে তাঁদের উভয়ের মধ্যে দু’ধনুকের পরিমাণ ব্যবধান রইল অথবা আরও কম।

(সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৭৫১৭/৭০৭৯)

দলিল-২:

হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

عن ابن عباس – رضي الله عنهما – قال: “أتعجبون أن تكون الخلة لإبراهيم والكلام لموسى، والرؤية لمحمد صلى الله عليه وسلم”

অর্থ: তোমরা কি এতে আশ্চর্যন্বিত হও যে আল্লাহ তায়ালা হযরত ইব্রাহীম আ. কে নিজের বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন, হযরত মুসা আ. এর সাথে কথা বলার দ্বারা এবং হযরত মুহাম্মাদ স. কে আপন দর্শন দ্বারা ধন্য করেছেন?

[নাসায়ী ফিল কুবরা, তুহফাতুল আশরাফ, খ.৫, পৃ.৭৬৫, আস-সুন্নাহ, ইবনে আবি আসেম, খ.১, পৃ.১৯২, আলবানী বলেছেন, হাদীসটি ইমাম বোখারীর শর্ত অনুযায়ী সহীহ, আশ-শরীয়া, আজুররী, খ.৩, পৃ.১৫৪১। হাদীসটি সহীহ।]

দলিল-৩:

عن ابن عباس في قوله {وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى}.قال: “رأى ربه فتدلى فكان قاب قوسين أو أدنى”

পবিত্র কুরআনের আয়াত: আর তিনি তাকে আরও একবার দেখলেন। সিদরাতুল মুনতাহার কাছে।

এই আয়াত সম্পর্কে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, তিনি তার প্রভূকে দেখেছেন। তার নৈকট্য অর্জন করেছেন|। এমনকি তাদের মাঝে দুই ধুনকের প্রান্ত বা এর চেযে কম দূরত্ব ছিলো।

[তিরমিযি শরীফ, হা.৩২৮০, আস-সুন্নাহ, ইবনে আবি আসেম, খ.১, পৃ.১৯১]

দলিল-৪:

তিরমিযি শরীফে হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত আছে,

عن عكرمة عن ابن عباس – رضي الله عنهما – قال: “رأى محمدٌ ربَّه”. قلت: أليس الله يقول {لا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَارَ} [الأنعام 103]، قال: ويحك ذاك إذا تجلى بنوره الذي هو نوره، وقال: أُرِيَه مرتين”

হযরত ইকরামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত- হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নিশ্চয়ই সায়্যিদিনা মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে দেখেছেন । আমি বললাম, আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন নি যে, তিনি দৃষ্টির অধিগম্য নন কিন্তু দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত।

তিনি (ইবনে আব্বাস রাঃ) বলেন, বিনাশ হোক ! এ অবস্থা হল তো তখনের যখন তিনি তাঁর আসল নূরে তাজাল্লী করেন । আর সায়্যিদিনা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবকে দু’বার দেখেছেন ।

( সুনানে তিরমিযি, হাদীস নং- ৩২৭৯)

দলিল-৫:

(বোখারী শরীফ, হা.৪৩৫৭, খ.৮, পৃ.৫৫, ইফাবা)

যারা অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহকে দেখার কথা বলেছেন:

হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহকে দেখার কথা বর্ণিত আছে।এছাড়া হযরত আবু যর রা. থেকে এমতটি বর্ণিত হয়েছে।

যারা অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহকে দেখার মত গ্রহণ করেছেন, তাদের দলিলসমূহ,

দলিল-১:

হযরত ইবনে আব্বাস রা. وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى [আর তিনি তাকে আরও একবার দেখলেন ।] এই আযাতের তাফসীর সম্পর্কে বলেন,

“إن النبي صلى الله عليه وسلم رأى ربه بقلبه”

অর্থ: নিশ্চয় রাসূল স. আল্লাহ তায়ালাকে তার অন্তর দিয়ে দেখেছেন।

[মুসলিম শরীফ, ঈমান অধ্যায়, বর্ণনা নং ৪৬৫, খ.৩, পৃ.৮]

দলিল-২: ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত,

“أن النبي صلى الله عليه وسلم رأى ربه بفؤاده مرتين”

অর্থ: রাসূল স. তার প্রভূকে দু’বার অন্তরের মাধ্যমে দেখেছেন।

[মুসলিম শরীফ, ঈমান অধ্যায়]

দলিল-৩:

ইব্রাহীম তাইমীর সূত্রে হযরত আবু যর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

“رآه بقلبه”

অর্থ: রাসূল স. অন্তর দ্বারা আল্লাহকে দেখেছেন।

[ কিতাবুত তাউহীদ, ইবনে খোজাইমা, খ.২, পৃ.৫১৬,  হা.৩১০-৩১১]

দলিল-৪:

ইমাম নাসায়ী হযরত আবু যর রা. থেকে বর্ণনা করেন,

“رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم ربَّه بقلبه ولم يره ببصره”

অর্থ: রাসূল স. তার প্রভূকে অন্তর দ্বারা দেখেছেন, চোখ দিয়ে দেখেননি।

[নাসায়ী শরীফ, তাফসীর, হা.৫৫৬, খ.২, পৃ.৩৪৫]

যারা আল্লাহ তায়ালাকে না দেখার মত দিয়েছেন,  তাদের দলিলসমূহ:

আল্লাহ তায়ালাকে না দেখার মতটি ব্যাপকভাবে হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। হযরত আবু যার রা. থেকে আল্লাহ তাযালাকে দেখার মতও বর্ণিত হয়েছে। আবার না দেখার মতটিও তার থেকে বর্ণিত হয়েছে। এখানে আমরা হযরত আয়েশা ও হযরত আবু যর রা. এর দলিলগুলি উল্লেখ করেছি।

দলীল নঃ-১

”মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আম্মাজান! মুহাম্মাদ (সাঃ) কি তাঁর রবকে দেখেছিলেন? তিনি বললেন, তোমার কথায় আমার গায়ের পশম কাঁটা দিয়ে খাড়া হয়ে গেছে। তিনটি কথা সম্পর্কে তুমি কি জান না যে তোমাকে এ তিনটি কথা বলবে সে মিথ্যাচারী।

যদি কেউ তোমাকে বলে যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন, তাহলে সে মিথ্যাচারী। তারপর তিনি পাঠ করলেন ‘’তিনি দৃষ্টির অধিগম্য নন, কিন্তু দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত’’ আন’আম ৬/১০৩ ‘’মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন, ওয়াহীর মাধ্যম ব্যতীত অথবা পর্দার আড়াল ছাড়া’’ শূরা ৪২/৫১

আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে, আগামীকাল কী হবে, তা সে জানে, তাহলে সে মিথ্যাচারী। তারপর তিলাওয়াত করলেন ‘’কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে’’ লুকমান ৩১/৩৪

এবং তোমাকে যে বলবে, মুহাম্মাদ (সাঃ) কোন কথা গোপন রেখেছেন, তাহলেও সে মিথ্যাচারী। এরপর তিনি পাঠ করলেন ‘’হে রাসুল! তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা প্রচার কর’’ মায়িদাহ ৫/৬৭

তবে হাঁ, রাসুল (সাঃ) জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর নিজস্ব আকৃতিতে দু’বার দেখেছেন”

বুখারী ৪৮৫৫

=================

দলীল নঃ-২

ইমাম নববী রহ: মুসলিম শরীফের একটি শিরোনাম এনেছেন ‘নাবী (সাঃ) কি ইসরা মি’রাজের রাত্রিতে তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন?’’ অধ্যায় ৭৭

”মাসরুক (রহঃ) বলেন, আমি আয়িশাহ (রাঃ)-এর মাজলিশে হেলান দিয়ে বসেছিলাম। তখন তিনি বললেন, হে আবু আয়িশাহ! তিনটি কথা এমন, যে এর কোন একটি বলল, সে আল্লাহ সম্পর্কে ভীষণ অপবাদ দিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেগুলো কি? তিনি বললেন, যে এ কথা বলে যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) তাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন, সে আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দিল।

রাবী মাসরুক বলেন, আমি তো হেলান অবস্থায় ছিলাম, এবার সোজা হয়ে বসলাম। বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! থামুন, আমাকে সময় দিন, ব্যস্ত হবেন না। আল্লাহ তায়ালা কি কুরআনে বলেন নাই ‘’তিনি তো তাঁকে স্পষ্ট দিগন্তে দেখেছেন’’ তাকভীর ৮১/২৩ এবং ‘’নিশ্চয়ই তিনি তাঁকে আরেকবার দেখেছিলেন’’ নাজম ৫৩/১৩

আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আমিই এ উম্মাতের প্রথম ব্যক্তি, যে রাসুল (সাঃ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বলেছেন, তিনি তো ছিলেন জিবরীল (আঃ), আর কেবলমাত্র এ দু’বারই আমি তাঁকে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেছি। আমি তাঁকে আসমান থেকে অবতরন করতে দেখেছি। তাঁর বিরাট দেহ ঢেকে ফেলেছিল আসমান ও যমিনের মধ্যবর্তী সব স্থানটুকু।

আয়িশাহ (রাঃ) আরও বললেন, তুমি শোননি? আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তিনি (আল্লাহ) দৃষ্টির অধিগম্য নন, তবে দৃষ্টিশক্তি তাঁর অধিগত এবং তিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত’ আন’আম ৬/১০৩

এরুপে তুমি কি শোননি? আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ তাঁর সাথে কথা বলবেন ওয়াহীর মাধ্যম ব্যাতিরেকে, অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যাতিরেকে, অথবা এমন দুত প্রেরন ব্যাতিরেকে যে তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ব্যক্ত করেন, তিনি সমুন্নত, প্রজ্ঞাময়’’ শূরা ৪২/৫১

আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আর ঐ ব্যাক্তিও আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়, যে এমন কথা বলে যে, রাসুল (সাঃ) আল্লাহর কিতাবের কোন কথা গোপন রেখেছেন। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে রাসুল! আপনার প্রতিপালকের নিকট হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন, যদি তা না করেন তবে আপনি তাঁর বার্তা প্রচারই করলেন না’ মায়িদাহ ৫/৬৭

আয়িশাহ (রাঃ) আরও বলেন, যে ব্যাক্তি এ কথা বলে যে, রাসুল (সাঃ) ওয়াহী ব্যাতিত আগামীকাল কি হবে তা অবহিত করতে পারেন, সেও আল্লাহর প্রতি ভীষণ অপবাদ দেয়। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘’বল- আসমান ও যমিনে আল্লাহ ব্যাতিত গায়েব সম্পর্কে কেউ জানে না’’ নামল ২৭/৬৫

মুসলিম; অধ্যায় ৭৭; হাদীস নঃ ১৭৭

==============

দলীল নঃ-৩

সহীহ মুসলিমের এর ৭৮ নঃ অধ্যায় ‘রাসুল (সাঃ)-এর বানীঃ ‘তা ছিল উজ্জ্বল জ্যোতি আমি তা দেখেছি। অন্য বর্ণনায়ঃ ‘আমি উজ্জ্বল জ্যোতি দেখেছি’’

এই অধ্যায়ে ইমাম মুসলিম (রহঃ) দু’টি হাদীস নিয়ে এসেছেনঃ

”আবু যার (রাঃ) বলেন, আমি রাসুল (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছি, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? রাসুল (সাঃ) বললেনঃ ‘’তিনি (আল্লাহ) নুর, তা আমি কিরুপে দেখবো?” মুসলিম; হাদিস নঃ ১৭৮

আবদুল্লাহ ইবন শাকীক (রহঃ) বলেন, আমি আবু যার (রাঃ)-কে বললাম, যদি রাসুল (সাঃ)-এর দেখা পেতাম তবে তাঁকে অবশ্যই একটি কথা জিজ্ঞেস করতাম। আবু যার (রাঃ) বললেন, কি জিজ্ঞেস করতে? তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করতাম যে, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? আবু যার (রাঃ) বললেন, এ কথা তো আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছেনঃ ‘আমি নুর দেখেছি

’ মুসলিম ১৭৮

আল্লাহকে দেখার পক্ষে ছিলেন যেসব তাবেযীগণ:

 বিখ্যাত অনেক তাবেযীর অভিমত হলো, রাসূল স. আল্লাহকে দেখেছেন। যেসব বিখ্যাত তাবেযী থেকে বিষয়টি বর্ণিত আছে, তাদের নাম উল্লেখ করা হলো,

তাবেয়ীগণের মাঝে যারা আল্লাহ তায়ালাকে দেখার পক্ষে ছিলেন,

১. ইকরিমা রহ.

[তাফসীরে ত্ববারী, খ.২৭, পৃ.৪৮, তাফসীরে ইবনে আবি হাতিম, খ.১০, পৃ.৩৩১৮, হাদীস নং ১৮৬৯৭,  তাফসীরে বাগাবী, খ.৭, পৃ.৪০৩]

২. হাসান বসরী রহ.

ইমাম মোবারক ইবনে ফুজালা বলেন,

“كان الحسن يحلف ثلاثة لقد رأى محمد ربه”

অর্থ: হাসান বসরী রহ. তিনবার কসম খেতেন যে, মুহাম্মাদ স. তার প্রভূকে দেখেছেন।

[আত-তাউহীদ, ইবনে খোজাইমা, খ.২, পৃ.৪৮৮, হা.২৮১, তাফসীরে হাসান বসরী, খ.৫, পৃ.৮৫, আশ-শিফা, কাজী ইয়াজ, খ.১, পৃ.২৫৮]

৩. ইমাম যুহরী। 

[ফাতহুল বারী, খ.৮, পৃ.৪৭৪]

৪.ইমাম মা’মার

[আত-তাউহীদ, ইবনে খোজাইমা, খ.২, পৃ.৫৬২]

৫. ইব্রাহীম ইবনে ত্বহমান

[সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, ইমাম যাহাবী, খ.৭, পৃ.৩৮১]

যারা অন্তরের মাধ্যমে দেখার কথা বলেছেন,

৬. আবুল আলিয়া ।

[আদ-দুররুল মানসুর, খ.৬, পৃ.১৬০]

৭. মুজাহিদ।

[তাফসীরে ত্ববারী, খ.২৭, পৃ.৫৬]

৮. রবী ইবেন আনাস।

[তাফসীরে ত্ববারী, খ.২৭, পৃ.৪৮]

৯. আবু সালেহ রহ.

[দুররে মানসুর, খ.৬,পৃ.১৬০]

১০. কায়াব আল-আহবার

[তিরমিযী, খ.৫,পৃ.৩৬১]

------ ------

এই বিষয়ে আরও জানতে চান?

আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।

নির্ভরযোগ্য গোপনীয় দ্রুত উত্তর

মন্তব্য 0

আপনার মন্তব্য জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্যকারী হোন! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।

লেখকের আরো ব্লগ

আক্বিদা

সালাফী আক্বিদা কেন বাতিল এবং সালাফীরা কেন পথভ্রষ্ট?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 72
আক্বিদা

মিলাদ ইত্যাদি নিয়ে এতো এতো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, এটা ছেড়ে দিলে সমস্যা কোথায়?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 79
ফিকহ

তারাবীর নামাযের ইমামতির হাদিয়া গ্রহণ: শরয়ী দৃষ্টিকোণ

ইজহারুল ইসলাম · 13 মার্চ, 2026 · 684
আক্বিদা

ইবনে উমর রা: এর শানে ইবনে তাইমিয়ার বেয়াদবি ও শিরকের অপবাদ (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম · 30 জুন, 2023 · 83