ইলম

শরীয়তে মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়ের সমাধান কীভাবে হবে?

ইজহারুল ইসলাম শুক্র, 10 সেপ্টে., 2021
28

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا

অর্থাৎ হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, মান্য কর রাসূলের নির্দেশ এবং তোমাদের মধ্যে যারা গভীর জ্ঞানের অধিকারী (আলেম বা বিচারক) রয়েছে তাদের । তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর; যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর আর পরিণতির দিক থেকে উত্তম।”

আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দিকে প্রত্যর্পণ

আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

فَإِن تَنَـازَعْتُمْ فِى شَىْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ

“যদি তোমরা কোন বিষয়ে মতপার্থক্যে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দিকে প্রত্যর্পন কর।”

আয়াতের এ অংশ প্রমাণ করে যে, কিয়াস শরীয়তের একটি অকাট্য হুজ্জত বা দলিল। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তোমরা যদি মতানৈক্য কর” এর দু’টি উদ্দেশ্য হতে পারে,

১. তোমরা যদি এমন বিষয়ে মতানৈক্য কর, যার সুস্পষ্ট বর্ণনা কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমাতে বিদ্যমান রয়েছে।

২. অথবা বিষয়টি এমন যে, যার সুস্পষ্ট বর্ণনা উপরোক্ত তিন উৎসের কোনটিতে নেই।

প্রথম অর্থটি উদ্দেশ্য নেয়া সঠিক হবে না, কেননা কোন বিষয়ের যদি কোরআন, সুন্নাহ ও ইজমায়ে উম্মতের মাঝে সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়, তাহলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে। এটি তখন “তোমরা আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল এবং উলুল আমরের অনুসরণ কর” এ নির্দেশের অন্তর্ভূক্ত হবে। এবং এ বিষয়ে মতানৈক্য করার কোন প্রশ্নই উঠবে না। যেমন, সালাত, হজ্জ্ব, যাকাত ইত্যাদি ফরয হওয়ার ব্যাপারে কারও কোন দ্বিমত নেই। সুতরাং প্রথম অর্থটি এখানে উদ্দেশ্য নেয়া বিশুদ্ধ নয়।

আর দ্বিতীয় অর্থটি হল, তোমরা যদি এমন বিষয়ে মতানৈক্য কর, যার সুস্পষ্ট বর্ণনা কুরআন, সুন্নাহ এবং ‘ইজমা’ তে পাওয়া না যায়, তার বিধান হল, মতানৈক্য পূর্ণ বিষয়ের সমাধান আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের নিকট সমর্পণ করা।

মতানৈক্যপূর্ণ বিষয় আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দিকে সমর্পণ কর, এর অর্থ অনেকে মনে করে যে, “ তোমরা কোরআন ও সহীহ হাদীসের অনুসরণ করো”। যেমনটি বর্তমানের আহলে হাদীসগণ মনে করে থাকেন। কিন্তু প্রকৃত অর্থ তা নয়। কেননা আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি, কোন বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা যদি কুরআন ও সুন্নাহে পাওয়া যায় তাহলে প্রথমতঃ সেটাই মানা ফরয। এবং কেউ তাতে দ্বিমত পোষণ করবে না। কিন্তু বিষয়টি যদি এমন হয় যে, যার সুস্পষ্ট বর্ণনা কুরআনও সুন্নাহে নেই, কিংবা বাহ্যিক দৃষ্টিতে দুটি স্পষ্ট বিধান পরস্পর সংঘর্ষপূর্ণ হয়, তবে এক্ষেত্রে মতানৈক্য হওয়াটা স্বাভাবিক।

আর এ মতানৈক্য কোন নিন্দনীয় বিষয় নয়। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলছেন, হে মুমিনগণ তোমরা যদি মতানৈক্য কর, অর্থাৎ এ মতানৈক্য যদি অবৈধ বা হারাম হত, তাহলে সরাসরি মতানৈক্য করতেই নিষেধ করা হত। কিন্তু আয়াতের বাচনভঙ্গী এটাই প্রমাণ করে যে, যে সমস্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা (নস) নেই, সে বিষয়ে তোমাদের মতানৈক্য লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এখন যদি তোমরা কখনও মতাক্যৈ লিপ্ত হয়ে পড়ো তাহলে,

فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ

‘বিষয়টিকে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দিকে সমর্পণ কর’

আয়াতের এ অংশের তাফসীর নিচে উল্লেখ করা হল।

তাফসীরে বাগাবীতে ইমাম বাগাবী (রহঃ) লিখেছেন,

{ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُول } أي: إلى كتاب الله وإلى رسوله ما دام حيا وبعد وفاته إلى سُنّته، والرُّد إلى الكتاب والسنة واجبٌ إن وُجد فيهما، فإن لم يُوجد فسبيله الاجتهاد.

“…আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দিকে প্রত্যর্পণ কর” অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব (কুরআন) এবং তাঁর রাসূলের কাছে বিষয়টি অর্পণ কর, যতদিন তিনি জীবিত থাকবেন। আর রাসূলের অবর্তমানে তাঁর সুন্নাতে বিষয়টির সমাধান অন্বেষণ কর। বিষয়টি যদি কুরআন ও সুন্নাহে বিদ্যমান থাকে, তাহলে কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণ করা অপরিহার্য। আর যদি কুরআন ও সুন্নাহে বিষয়টির সমাধান না পাওয়া যায়, তাহলে এর সমাধানের পথ হল, ইজতেহাদ।”

তাফসীরে বায়যাবীতে ইমাম বায়যাবী (রহঃ) লিখেছেন,

فردوه ( فراجعوا فيه ) إلى الله ( إلى كتابه ) والرسول ( بالسؤال عنه في زمانه والمراجعة إلى سنته بعده واستدل به منكرو القياس وقالوا إنه تعالى أوجب رد المختلف إلى الكتاب والسنة دون القياس وأجيب بأن رد المختلف إلى المنصوص عليه إنما يكون بالتمثيل والبناء عليه وهو القياس ويؤيد ذلك الأمر به بعد الأمر بطاعة الله وطاعة رسوله فإنه يدل على أن الأحكام ثلاثة مثبت بالكتاب ومثبت بالسنة ومثبت بالرد إليهما على وجه القياس

“ বিষয়টি আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের কাছে সমর্পণ কর, এর অর্থ হল, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের দিকে বিষয়টি সমর্পণ কর, যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন; বিবাদমান বিষয়ে তাঁর কাছে জিজ্ঞেস কর এবং তার মৃত্যুর পরে তার সুন্নতের মাঝে এর সমাধান অনুসন্ধান কর।

এ আয়াতের দ্বারা কিয়াস অস্বীকার কারীরা প্রমাণ পেশ করে থাকে যে, আল্লাহ তায়ালা মুখতালাফ বা মতানৈক্য পূর্ণ বিষয়কে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দিকে সমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন সুতরাং এখানে কিয়াসের কোন সুযোগ থাকে না। এর উত্তর হল, বিবাদপূর্ণ বিষয়টি কুরআন ও হাদীসের দিকে প্রত্যর্পণের পদ্ধতি হল, তামসীল ও বেনা তথা সাদৃশ্যপূর্ণ দু’টি বিষয়ের একটিকে অপরটির সাথে তুলনা করা, যার অপর নাম হল কিয়াস। আর এখানে যে কিয়াস উদ্দেশ্য, তার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায়, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের অনুসরণের নির্দেশ দেয়ার পর আবার বিবাদপূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে নির্দেশ প্রদান করার দ্বারা। কেননা এ নির্দেশ প্রমাণ করে যে, শরীয়তের বিধি-বিধান তিন প্রকার। যথা,

১. কুরআন দ্বারা প্রমাণিত (মুসবাত বিল কিতাব)

২. সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত (মুসবাত বিস সুন্নাহ)

৩. কুরআন ও সুন্নাহ থেকে কিয়াসের মাধ্যমে উৎসারিত বিধান ”

[তাফসীরে বায়যাবী, পৃষ্ঠা-২০৬]

আল্লামা ফখরুদ্দিন রাযী (রহঃ) লিখেছেন,

ৃأن المراد : فان تنازعتم في شيء حكمه غير مذكور في الكتاب والسنة والاجماع ، واذا كان كذلك لم يكن المراد من قوله : {فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} طلب حكمه من نصوص الكتاب والسنة. فوجب أن يكون المراد رد حكمه إلى الأحكام المنصوصة في الوقائع المشابهة له ، وذلك هو القياس ، فثبت أن الآية دالة على الأمر بالقياس.

“(আয়াতের এ অংশের উদ্দেশ্য হবে).. যদি তোমরা এমন বিষয়ে মতানৈক্য কর যার বর্ণনা কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমাতে বিদ্যমান নেই। সুতরাং ‘আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের কাছে সমর্পণ কর’ এ আদেশ দ্বারা কুরআন ও সুন্নাহের সুস্পষ্ট বিধান উদ্দেশ্য হবে না। বরং উদ্দেশ্য হবে, ‘তোমরা মতানৈক্য পূর্ণ বিষয়টিকে কুরআন ও সুন্নাহের সাথে তুলনা করো। আর একেই কিয়াস বলে। সুতরাং প্রমাণিত হল যে, আয়াতটি কিয়াসের ব্যাপারে নির্দেশ প্রদান করেছে।”

ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) “আহকামুল কুরআনে” উপর্যুক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে লিখেছেন,

ومن تنازع ممن بعد عن رسول الله رد الأمر إلى قضاء الله ثم إلى قضاء رسول الله فإن لم يكن فيما تنازعوا فيه قضاء نصا فيهما ولا في واحد منهما ردوه قياسا على أحدهما

“রাসূল (সঃ) এর অবর্তমানে কেউ যদি কোন বিষয়ে মতাক্যৈ লিপ্ত হয়, তবে বিষয়টিকে সে আল্লাহর ফয়সালার দিকে সপর্দ করবে। অতঃপর তাঁর রাসূলের (সঃ) ফয়সালা গ্রহণ করবে। মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়ের সমাধান যদি কুরআন ও সুন্নাহের কোনটিতে না থাকে, তাহলে কুরআন ও সুন্নাহের আলোকে কিয়াস করে সমাধান করবে।”

ইসলামে আলেম ও ফকীহদের অনুসরণের গুরুত্বের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) তাঁর বিখ্যাত কিতাব “ই‘লামুল মুয়াক্কিয়ীন আন রাবিক্ষল আলামীন” এ আলাদা একটা পরিচ্ছেদ তৈরি করেছেন। পরিচ্ছেদের শিরোনাম হল, المنزلة العظمى لفقهاء الإسلام (ইসলামের ফকীহদের গৌরবময় অবস্থান)। তিনি লিখেছেন,

فقهاء الإسلام ومن دارت الفتيا على أقوالهم بين الأنام الذين خصوا باستنباط الأحكام وعنوا بضبط قواعد الحلال والحرام فهم في الأرض بمنزلة النجوم في السماء بهم يهتدي الحيران في الظلماء وحاجة الناس إليهم أعظم من حاجتهم إلى الطعام والشراب وطاعتهم أفرض عليهم من طاعة الأمهات والآباء بنص الكتاب قال تعالى {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِر} ذلك خير وأحسن تأويلا قال عبد الله بن عباس في إحدى الروايتين عنه وجابر بن عبد الله والحسن البصري

“ইসলামের ফকীহগণ এবং যাদের ফতোয়াসমূহ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও পরিচিত; যারা শরীয়তের বিধি-বিধান ইস্তেম্বাতের বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্টমণ্ডিত। যারা হালাল-হারাম নির্ণয়ের নীতিমালা নির্ধারণ করেছেন। ভূ-পৃষ্ঠে তাদের অবস্থান আসমানের তারকার ন্যায়; অন্ধকারে পথহারা ব্যক্তি তার দ্বারা সঠিক পথের দিশা পায়। তাদের প্রতি মানুষের প্রয়োজন মানুষের খাদ্য ও পানীয়র প্রতি যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তারচেয়ে বেশি। বাপ-দাদা ও মায়েদের অনুসরণের চেয়ে তাদের অনুসরণ অধিক আবশ্যকতার দাবী রাখে।

কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِر

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে মান্য কর, আর মান্য কর আল্লাহর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলুল আমর রয়েছে তাদের। যদি তোমরা কোন বিষয়ে মতাক্যৈলিপ্ত হও, তাহলে বিষয়টিকে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দিকে তা প্রত্যর্পণ কর; যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো

[ই’লামুল মুয়াক্বিয়ীন, পৃষ্ঠা-৯]

------ ------

এই বিষয়ে আরও জানতে চান?

আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।

নির্ভরযোগ্য গোপনীয় দ্রুত উত্তর

মন্তব্য 0

আপনার মন্তব্য জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্যকারী হোন! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।

লেখকের আরো ব্লগ

আক্বিদা

সালাফী আক্বিদা কেন বাতিল এবং সালাফীরা কেন পথভ্রষ্ট?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 72
আক্বিদা

মিলাদ ইত্যাদি নিয়ে এতো এতো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, এটা ছেড়ে দিলে সমস্যা কোথায়?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 79
ফিকহ

তারাবীর নামাযের ইমামতির হাদিয়া গ্রহণ: শরয়ী দৃষ্টিকোণ

ইজহারুল ইসলাম · 13 মার্চ, 2026 · 684
আক্বিদা

ইবনে উমর রা: এর শানে ইবনে তাইমিয়ার বেয়াদবি ও শিরকের অপবাদ (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম · 30 জুন, 2023 · 83