আক্বিদা

নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে হযরত উমর রাজিয়াল্লাহু আনহুর বরতক লাভ, নবীজীর প্রতি হযরত উমরের আজমত ও মব্বত

ইজহারুল ইসলাম রবি, 09 এপ্রি., 2023
24

১। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়ভাজন ও বংশের হওয়ার কারণে হযরত আব্বাস রা: কে ওসিলা করে নিজে আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য দু’য়া করেছেন। একইভাবে হযরত আব্বাস রা: কে দিয়ে দু’য়া করিয়েছেন। যা বোখারীতে বর্ণিত হয়েছে।

বোখারী শরীফে রয়েছে, হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, 

عن أنس بن مالك - رضي الله عنه - قال: كنا إذا قحطنا استسقى عمر بن الخطاب - رضي الله عنه - بالعباس بن عبد المطلب - رضي الله عنه - فقال: اللهم إنا كنا نتوسل إليك بنبينا فتسقينا , وإنا نتوسل إليك بعم نبينا فاسقنا , قال: فيسقون.

অথর্: আমরা যখন অনাবৃষ্টির স্বীকার হতাম, তখন হযরত উমর রা. হযরত আব্বাস রা. এর মাধ‍্যমে বৃষ্টির দুয়া করতেন। হযরত উমর রা. বলেন, অথর্: আমরা যখন অনাবৃষ্টির স্বীকার হতাম, তখন হযরত উমর রা. হযরত আব্বাস রা. এর মাধ‍্যমে বৃষ্টির দুয়া করতেন। হযরত উমর রা. বলেন, হে আল্লাহ, নিশ্চয় আমরা আমাদের নবী রাসূল স. এর মাধ‍্যমে আপনার কাছে ওসিলা করতাম, আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করতেন, এখন আমরা আপনার কাছে আমাদের নবীজীর চাচাকে ওসিলা করছি, আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন। হযরত আনাস বলেন, এরপর বৃষ্টি হতো। 

বোখারী শরিফ, হাদীস নং ৫১১

এই হাদীস জীবিত ব‍্যক্তির ওসিলার সুস্পষ্ট প্রমাণ। এই হাদীসে হযরত উমর রা. এর দুয়াটি ব‍্যক্তির মাধ‍্যমে ওসিলা প্রমাণ করছে। আর হযরত উমর রা. যখন হযরত আব্বাস রা. কে ওসিলার দুয়া করতে বলছেন, তখন এটি নেককার লোকের কাছে দুয়ার প্রমাণ। মূল কথা হলো, হযরত উমর রা. এই দুয়াটিতে স্পষ্ট ওসীলা রয়েছে। আমাদের কাছে হযরত উমর রা. এর নিজের এই দুয়া যেমন ওসিলার প্রমাণ, একইভাবে হযরত আব্বাস রা. কে দুয়া করার জন‍্য যখন তিনি অনুরোধ করেছেন, সেটাও আরেক প্রকার ওসিলার প্রমাণ। হযরত উমর রা. এর নিজের দুয়াটি লক্ষ‍্য করুন,

اللهم إنا كنا نتوسل إليك بنبينا فتسقينا , وإنا نتوسل إليك بعم نبينا فاسقنا

হে আল্লাহ, নিশ্চয় আমরা আমাদের নবী রাসূল স. এর মাধ‍্যমে আপনার কাছে ওসিলা করতাম, আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করতেন, এখন আমরা আপনার কাছে আমাদের নবীজীর চাচাকে ওসিলা করছি, আপনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন। 

উমর রা. এখানে আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন‍্য দুয়া করেছেন। এই দুয়ার মধ্যে হযরত আব্বাস রা. কে ওসীলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হযরত উমর রা. দুয়াটি ব‍্যক্তির মাধ‍্যমে ওসীলার প্রমাণ। এবং হযরত আব্বাস রা.কে দুয়া করতে বলাটা কোন নেককার ব‍্যক্তির মাধ‍্যমে ওসীলার প্রমাণ। এখানে দু’প্রকার ওসিলা এক সাথে হয়েছে। একে এক প্রকার বানাবার চেষ্টার কোন সুযোগ নেই। 

এই হাদীসের অন‍্য বর্ণনা থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। বণর্নাটি শায়খ নাসীরুদ্দীন আল-বানী তার আত-তাওয়াসসুল কিতাবের ৬২ পৃষ্টায় এনেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন। হযরত আব্বাস রা দুয়া করেছেন,

اللهم إنه لم ينزل بلاء إلا بذنب ، ولم يكشف إلا بتوبة ، وقد توجه القوم بي إليك لمكاني من نبيك ، وهذه أيدينا إليك بالذنوب ونواصينا إليك بالتوبة فاسقنا الغيث .

অথর্: হে আল্লাহ, প্রত্যেক বালা- মুসীবতই গোনাহের কারণে আসে, আর তাওবা ছাড়া এটি দূর হয় না, হে আল্লাহ, আমার জাতি আমার মাধ‍্যমে আপনার স্মরণাপন্ন হয়েছে, কারণ আপনার প্রিয় নবীর সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে (নবীজীর চাচা)। আপনার সামনে আমাদের গোনাহগার হাতগুলো উপস্থিত, আর উপস্থিত আমাদের তাওবার কপাল, আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন। 

আত-তাওয়াসসুল, পৃ.৬২

হযরত আব্বাস রা. এখানে গুরুত্বপূণর্ কয়েকটি কথা বলেছেন। 

১. তিনি আল্লাহর কাছে দুয়ার সময় বলেছেন, আমার জাতি আমার মাধ‍্যমে হে আল্লাহ আপনার কাছে আবেদন করেছে। এখানে স্পষ্টভাবে হযরত আব্বাস রা. এর ওসিলা প্রমাণিত। হযরত আব্বাস রা. এর এই বক্তব্যের দ্বিতীয় কোন ব‍্যাখ‍্যার সুযোগ নেই।

২.সাহাবায়ে কেরাম রা. হযরত আব্বাস রা. এর ওসিলা গ্রহণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, হযরত আব্বাস রা. এর সাথে রাসূল স. এর আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে। কারণ তিনি রাসূল স. এর চাচা ছিলেন। রাসূল স. এর সাথে এই সম্পর্কের কারণে তার ওসিলা গ্রহণ পরোক্ষভাবে রাসুল স. এর ওসিলা গ্রহণ। হযরত উমর রা. তার দুয়ার মধ্যেও এই সম্পর্কের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহ, আমাদের নবীজীর চাচার মাধ‍্যমে আপনার কাছে আবেদন করছি। উমর রা. এর কথা থেকেও সম্পর্কের গুরুত্ব স্পষ্ট। সুতরাং এখানে হযরত আব্বাস রা. ও হযরত উমর রা. এর বক্তব‍্য থেকে স্পষ্ট যে, মূলত: এখানে রাসূল স. এর ওসিলা দিয়ে দুয়া করা হয়েছে। 

সম্পূর্ণ ঘটনা থেকে যেসকল বিষয় প্রমাণিত হয়,

১. হযরত উমর রা. তার দুয়ার মধ্যে হযরত আব্বাস রা. এর ওসিলা করেছেন। এবং পরোক্ষভাবে হযরত আব্বাস রা. এর ওসিলার কারণ হলো, তিনি রাসূল স. এর চাচা। 

২.হযরত আববাস রা. এর নিজের বক্তব‍্য থেকে দিবালোকের ন‍্যায় স্পষ্ট যে, সাহাবায়ে কেরাম তার মাধ‍্যমে আল্লাহর কাছে আবেদন করেছে। হযরত আব্বাস রা. এর স্বীকারোক্তিতে বিষয়টি প্রমাণিত।

৩. হযরত উমর রা. হযরত আব্বাসকে দুয়া করার কথা বলেছেন। এর মাধ‍্যমে কোন নেককার লোকের কাছে দুয়া চাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত।

৪. হযরত উমর রা. ও অন‍্যান‍্য সাহাবী হযরত আব্বাস রা. এর ওসিলা গ্রহণের মূল কারণ হলো, হযরত আব্বাস হলেন রাসূল স. এর আপন চাচা। রাসূল স. এর সাথে তার সম্পর্কের কারণে এই ওসিলা করা হয়েছে। সুতরাং মূল ওসিলা করা হয়েছে রাসূল স. এর মাধ‍্যমে। হযরত আব্বাস রা. এর স্পষ্ট বক্তব‍্য থেকে বিষয়টি প্রমাণিত। হযরত আব্বাস বলেছেন, “হে আল্লাহ, আমার জাতি আপনার কাছে আমার মাধ‍্যমে আবেদন করেছে, কারণ আপনার নবীর সাথে আমার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে”। হযরত আব্বাস রা. এর এই স্পষ্ট বক্তব‍্য থেকে রাসূল স. এর ইন্তেকালের পরে রাসূল স. এর মাধ‍্যমে ওসিলা দেয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ। 

হযরত উমর রা. এর ঘটনায় মোট তিন প্রকারের ওসিলা প্রমাণিত হয়েছে। 

১. কোন ব‍্যক্তির ওসিলায় দুয়া করা। (বোখারীতে বর্নিত, হযরত উমর রা. এর নিজের দুয়া)।

২.কোন নেককার লোকের কাছে দুয়ার আবেদন করা। (হযরত আব্বাস রা. কে উমর রা. দুয়ার অনুরোধ করেছেন)।

৩. মৃত ব‍্যক্তির ওসিলা দেয়া। (হযরত আব্বাস রা. দুয়ার সময় রাসূল স. এর সাথে তার সম্পর্কের কথা বলে দুয়া করেছেন)

এই তিন প্রকারের ওসিলা উক্ত সহীহ বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে। বক্তব‍্যগুলো সালাফীদের নিজেদের বানানো আকিদার বিরোধী হওয়ার কারণে তারা বিভিন্নভাবে এগুলোর অপব‍্যাখ‍্যা করার চেষ্টা করেছে। সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, শায়খ আলবানীসহ অন‍্যান‍্যরা ঘটনাকে বিকৃত করার চেষ্টা করলেও বাস্তবতা সকলের কাছে স্পষ্ট। তারা এক্ষেত্রে একটা ভিত্তিহীন দাবী করেছে যে, হযরত উমর রা. হযরত আব্বাস রা.কে বলেছেন, হে আব্বাস, আপনি উঠুন। আল্লাহর কাছে দুয়া করুন। এই বক্তবে‍্যর মাধ‍্যমে দাবী করেছে যে, এখানে শুধু হযরত আব্বাস রা এর কাছে দুয়া চাওয়া হয়েছে। এছাড়া আর কিছুই নয়। এটা সালেহ আল-মুনাজ্জিদ ও শায়খ আলবানীর স্পষ্ট বিকৃতি। নীচের লিংকে শায়খ মুনাজ্জিদের বিকৃতির নমুনা দেখতে পাবেন, https://islamqa.info/ar/118099

আমরা সহীহ দু’টি হাদীসের আলোকে তাদের এই বিকৃতির জওয়াব উল্লেখ করেছি আল-হামদুলিল্লাহ। হযরত উমর রা. হযরত আব্বাসকে দুয়া করতে বলেছেন। এটা অন‍্য প্রকারের ওসিলার তো বিরোধী নয়। সুতরাং এটা দিয়ে বাকী দুই প্রকারের ওসিলা অস্বীকারের অপচেষ্টা নিতান্ত হাস‍্যকর। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন। 

২। হযরত আলী রা: এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন শুধু এজন্য তিনি নবীজীর বংশের। নবীজীর বংশের বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যেই তিনি এটা করেছেন, যা এ বিষয়ক বর্ণনাগুলোতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ক গ্রহণযোগ্য বর্ণনাগুলো বিখ্যাত মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ বিন সিদ্দিক আল-গুমারী তার আর-রদ্দুল মুহকামুল মাতীনে হাদীসের কিতাবসমূহ থেকে তাখরিজ করেছেন। নিচের দু’পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

 

 

৩। নবীজীর পাশে কবরের জন্য হযরত আয়েশা রা: এর কাছে বার বার অনুরোধ করেছেন। 

 

৪। একদা হযরত উমর রা: মসজিদে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে রওনা হলে হযরত আব্বাস রা: এর ঘরের পরনালার পানি উমর রা: এর গায়ে পড়ে। তিনি কাপড় পরিবর্তন করে নামাজ আদায় করেন এবং উনার পরনালাটি সরিয়ে ফেলতে বলেন। তখন হযরত আব্বাস রা: বলেন, হে উমর, আপনি এই পরনালা সরিয়েছেন অথচ এটি নবীজী নিজ হাতে লাগিয়েছিলেন। একথা শুনে হযরত উমর রা: বলেন, আপনি নিজ হাতে পরনালাটি আগের জায়গায় লাগাবেন। তবে এটা লাগানোর জন্য কোন সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে না। বরং উমরের কাঁধ হবে আপনার সিঁড়ি। (সুবহানাল্লাহ)। তখন হযরত আব্বাস রা: হযরত উমরের কাঁধে চড়ে পরনালাটি আবার আগের জায়গায় রেখে দেন। 

حدثنا أسباط بن محمد حدثنا هشام بن سعد عن عبيد الله بن عباس بن عبد المطلب أخي عبد الله قال كان للعباس ميزاب على طريق عمر بن الخطاب فلبس عمر ثيابه يوم الجمعة وقد كان ذبح للعباس فرخان فلما وافى الميزاب صب ماء بدم الفرخين فأصاب عمر وفيه دم الفرخين فأمر عمر بقلعه ثم رجع عمر فطرح ثيابه ولبس ثيابا غير ثيابه ثم جاء فصلى بالناس فأتاه العباس فقال والله إنه للموضع الذي وضعه النبي صلى الله عليه وسلم فقال عمر للعباس وأنا أعزم عليك لما صعدت على ظهري حتى تضعه في الموضع الذي وضعه رسول الله صلى الله عليه وسلم ففعل ذلك العباس رضي الله تعالى عنه

[মুসনাদে আহমাদ, বর্ণনা: 1793]

 

সুবহানাল্লাহ। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরনালাটি লাগিয়েছিলেন, এই জন্য হযরত উমর রাজিয়াল্লাহু আনহু পরনালি সেখানেই রেখে দিলেন। আর এই পরনালাটি সেখানে রাখার জন্য তিনি নিজের কাঁধ ব্যবহার করেছেন। কোন সিঁড়ি ব্যবহার করতে চাননি। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কী আজমত ও মহব্বত ছিলো হযরত উমর রাজিয়াল্লাহু আনহু। আল-ফাতহুর রব্বানিতে আব্দুর রহমান সায়াতি রহ: বলেন, 

وفيه انقياد الصحابة لما فعله النبي صلى الله عليه وسلم والتبرك بآثاره رضي الله عنهم

অর্থাৎ এই হাদীসে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন তার প্রতি সাহাবায়ে কেরামের নিরঙ্কুশ আনুগত্য এবং এর মাধ্যমে বরকত হাসিলের বিষয়টিও স্পষ্ট।

[আল-ফাতহুর রাব্বানি, খ: ১৫, পৃ: ১১১ ]

৫। বাইতুল মুকাদ্দাসে নবীজী যেখানে নামাজ আদায় করেছেন সেখানে গিয়ে নামাজ আদায় করেছেন। যদিও কা’য়াব আল-আহবার র: বাইতুল মুকাদ্দাসের পাথরের কাছে নামাজ আদায়ের পরামর্শ দিয়েছিলেন। 

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে ইবনে কাসীর রহ: বাইতুল মুকাদ্দাসের বিজয়ের ঘটনা বিস্তারিত লিখেছেন। সেখানে তিনি হযরত উমর রা: এর আমল তুলে ধরেছেন, 

 

قال الإمام أحمد: حدثنا أسود بن عامر، ثنا حماد بن سلمة عن أبي سنان، عن عبيد بن آدم، وأبي مريم، وأبي شعيب: أن عمر بن الخطاب كان بالجابية فذكر فتح بيت المقدس، قال: قال ابن سلمة: فحدثني أبو سنان، عن عبيد بن آدم سمعت عمر يقول لكعب: أين ترى أن أصلي؟

قال: إن أخذت عني صليت خلف الصخرة، وكانت القدس كلها بين يديك.

فقال عمر: ضاهيت اليهودية، لا ولكن أصلي حيث صلى رسول الله ﷺ، فتقدم إلى القبلة فصلى، ثم جاء فبسط ردائه وكنس الكناسة في ردائه، وكنس الناس.

وهذا إسناد جيد، اختاره الحافظ ضياء الدين المقدسي في كتابه (المستخرج)، وقد تكلمنا على رجاله في كتابنا الذي أفردناه في مسند عمر، ما رواه من الأحاديث المرفوعة، وما روى عنه من الآثار الموقوفة مبوبا على أبواب الفقه، ولله الحمد والمنة.

 

অর্থাৎ ইমাম আহমাদ রহ: বলেন, আমাদের কাছে আসওয়াদ বিন আমের বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাম্মাদ বিন সালামা আবু সিনান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উবাইদ বিন আদম, আবু মারইয়াম ও আবু শুয়াইব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত উমর রা: জাবিয়া নামক স্থানে ছিলেন। তখন তিনি বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয়ের ঘটনা আলোচনা করলেন। তিনি বলেন, ইবনে সালামা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু সিনান উবাইদ বিন আদম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি উমর রা: কে কা’য়াব আল-আহবারকে বলতে শুনেছি যে, হে কা’য়াব, বাইতুল মুকাদ্দাসের কোথায় আমার নামাজ পড়াকে তুমি উত্তম মনে করো? তিনি বললেন, আপনি যদি আমার মত নিতে চান, তাহলে আমি হলে পাথরের পিছে নামাজ আদায় করতাম। সম্পূর্ণ বাতুল মুকাদ্দাসই তখন আপনার সামনে থাকবে। 

এই কথা শুনে হযরত উমর রা: বললেন, তুমি ইয়াহুদীবাদকে প্রাধান্য দিয়েছো। না। আমি বরং সেখানে নামাজ আদায় করব যেখানে নবীজী নামাজ আদায় করেছেন। তখন তিনি কেবলার দিকে অগ্রসর হয়ে নামাজ আদায় করলেন। 

 

উক্ত হাদীস বর্ণনা উল্লেখ করে, ইবনে কাসীর বলেন, هذا إسناد جيد অর্থাৎ এটি একটি জাইয়্যেদ (ভালো) স্তরের সনদ। হাফেজ জিয়া আল-মাকেদসী তার আল-মুস্তাখরাজ কিতাবে এই মতটি গ্রহণ করেছেন। আমি এই হাদীসের রাবীদের ব্যাপারে আমার মুসনাদে উমর নামক স্বতন্ত্র কিতাবে আলোচনা করেছি। 

[আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খ:৭, পৃ: ৫৮ ]

 

বর্তমানে শায়খ আলবানী বা শায়খ শুয়াইব আরনাউত উক্ত বর্ণনাকে দুর্বল বললেও শায়খ আহমাদ শাকের মুসনাদে আহমাদের উক্ত বর্ণনাকে হাসান বলেছেন। সুতরাং ইবনে কাসীর রহ: এর বক্তব্য ও শায়খ আহমাদ শাকেরের বক্তব্য অনুযায়ী হাদীসটি হাসান বা জাইয়্যেদ স্তরের।



 

 

 

 

৬। নবীজীর আংটি ও বর্ষা পর্যায়ক্রমে চারও খলিফা সংরক্ষণ করেছেন এবং একজন থেকে আরেকজন সেটি গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে হযরত উমর রা:ও ছিলেন। 

৭। হযরত উমর রা: এর বিখ্যাত দু’য়াটি প্রায় সবারই জানা। তিনি দু’য়া করতেন, হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার রাস্তায় শাহাদাত নসীব করুন এবং আপনার রাসূলের শহরে আমার মৃত্যু দান করুন। নবীজীর শহরে ইন্তিকাল করতে চাওয়ার দু’য়াটি নবীজীর প্রতি হযরত উমরের সীমাহীন মহব্বত ও এখানের বরকত হাসিলের প্রমাণ। 

সহীহ বোখারীতে রয়েছে,

عن عمر رضي الله عنه، قال: «اللهم ارزقني شهادة في سبيلك، واجعل موتي في بلد رسولك صلى الله عليه وسلم»

হযরত উমর রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার রাস্তায় শাহাদাত নসীব করুন এবং আমার মৃত্যু আপনার রাসূলের শহরে দান করুন। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। 

বোখারী, হা: ১৮৯০

 

৮। আল-ইসাবাতে ইবনে হাজার আসকালানী রহ: হযরত ফিরাস রা: এর জীবন আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন,

“হযরত সফিয়্যাহ বিনতে বাহরাহ রাজিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার চাচা ফিরাস নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একটি পাত্রে পানি পান করতে দেখে সেটি তিনি নবীজীর কাছ থেকে হাদিয়া চান। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত ফিরাসকে পাত্রটি দেন। পরবর্তীতে যখনই হযরত উমর রাজিয়াল্লাহু আনহু আমাদের এখানে আসতেন, তিনি বলতেন, তোমরা নবীজী সাল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পান-পাত্রটি বের করো। আমরা সেটি বের করতাম। তিনি এতে জমজমের পানি নিয়ে পান করতেন এবং তার মুখে ছিটিয়ে দিতেন”।

[আল-ইসাবা, বর্ণনা নং ৬৯৮৭]

এই বর্ণনা থেকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পানপাত্রের প্রতি হজরত উমর রাজিয়াল্লাহু আনহুর আজমত ও মহব্বতের বহি:প্রকাশ ঘটেছে। সেই সাথে এই পান-পাত্র থেকে বরকত হাসিলের চেষ্টাও করেছেন। এতে তিনি জমজমের পানি পান করতেন এবং সেটি তার মুখে ছিটিয়ে দিতেন। যা পানপাত্র থেকে তাবাররুক হাসিলের স্পষ্ট প্রমাণ। 

 

------ ------

এই বিষয়ে আরও জানতে চান?

আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।

নির্ভরযোগ্য গোপনীয় দ্রুত উত্তর

মন্তব্য 0

আপনার মন্তব্য জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্যকারী হোন! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।

লেখকের আরো ব্লগ

আক্বিদা

সালাফী আক্বিদা কেন বাতিল এবং সালাফীরা কেন পথভ্রষ্ট?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 71
আক্বিদা

মিলাদ ইত্যাদি নিয়ে এতো এতো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, এটা ছেড়ে দিলে সমস্যা কোথায়?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 78
ফিকহ

তারাবীর নামাযের ইমামতির হাদিয়া গ্রহণ: শরয়ী দৃষ্টিকোণ

ইজহারুল ইসলাম · 13 মার্চ, 2026 · 683
আক্বিদা

ইবনে উমর রা: এর শানে ইবনে তাইমিয়ার বেয়াদবি ও শিরকের অপবাদ (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম · 30 জুন, 2023 · 81