আক্বিদা

টি-টি-পি খারেজীদের অপরাধনামা (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম বুধ, 01 মার্চ, 2023
23

আবু ইয়া=হই=য়া গাদা-ন বা আ=জ্জ=াম আল-আ-মরিকি ছিলেন কা=য়=দার গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ইংরেজীতে তার বহু বক্তব্য কা=য়=দার পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়েছে। এই শায়খ দীর্ঘ সময় পা-ক, আ-ফ-গান সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করেছেন। তিনি সরাসরি টি-টি-পির বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের সাথে কথাও বলেছেন।

পাকি=স্তানের অ্যাবো=টাবা=দে আ=মেরিকা অভিযান চালিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি হস্তগত করে। বি=ন লা=দে=নের নিজস্ব ডাইরী থেকে শুরু করে অসংখ্য চিঠিপত্র, কম্পিউটার হার্ডডিস্কে প্রচুর লেখনী, বই ইত্যাদি পাওয়া যায়। ২০১৭ সালে সি=আ-ই এসব ডকুমেন্ট উন্মুক্ত করে দেয়। অনলাইনে এসব ডকুমেন্টের মূল কপিও পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে ওসাইকু আবাতাবাদ বা Abbottabad Documents আরবীতে তিন খন্ডের কিতাব বের করা হয়েছে। এই সব ডকুমেন্ট সম্পর্কে কা=য়=দার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বক্তব্য হলো, এই সব ডকুমেন্ট সঠিক। এতে অনেক উপকারী বিষয় আছে। যেমন, আবু মারয়াম আজদী কা=য়=দার সিনিয়র নেতা আবু ইয়া=হইয়া আল=লিবির কাছে অ্যাবোটাবাদ ডকুমেন্টের প্রথম খন্ড পেশ করে এর সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এর সত্যায়ন করেন। এবং বলেন, এতে অনেক উপকারী ও জ্ঞানগর্ভপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

একইভাবে এই ডকুমেন্ট থেকে জ-য়=াহেরী তার এক বক্তব্যে উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন। অন্যান্য শায়খরাও এই ডকুমেন্টকে সত্যায়ন করেছেন। তবে কেউ কেউ বলেছেন, ডকুমেন্টের কিছু বিষয় অসম্পূর্ণ আছে।

মূল কথা হলো, অ্যাবোটাবাদ ডকুমেন্ট কা=য়দ=ার সিনিয়র পর্যায়ের নেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য। স্ক্রিনশটে তাদের বক্তব্য দ্রষ্টব্য।

এই অ্যাবোটাবাদ ডকুমেন্টের প্রথম খন্ডের একেবারে শুরুর দিকে আজ-জ-াম আল-আম০রিকির একটি লম্বা চিঠি রয়েছে। সেখানে তিনি জি=হা=দের নামে প্রচলিত বিভিন্ন জে=হা=দী দলের গণহত্যা, মসজিদ, বাজার ইত্যাদিতে নির্বিচারে হামলা, ছিনতাই, ডাকাতি ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছেন। তাদের অবস্থা তুলে ধরে এসব দল ও তাদের কর্মকান্ড থেকে কা=য়=দা মুক্ত এই মর্মে একটি সাধারণ ঘোষণা প্রস্তুত করে দিয়েছেন যাতে এটি কা=য়=দার পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়। এই আলোচনায় দা=য়েশের নানা খারেজী কর্মকান্ডের পাশাপাশি টি=টি=পির অপকর্ম নিয়েও আলোচনা ওঠে এসেছে।

নিচে সংক্ষেপে তার বক্তব্যগুলো তুলে ধরছি। কা=য়=দার লিডার আজ্জাম আল--আম=রিকি লিখেছেন,

" মানুষের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান নিয়ে ছিনি-মিনি খেলার বিষয়ে আমাদের অসতর্কতা ষোল-কলায় পূর্ণ হয়েছে।

মু=জা=হিদ হিসেবে পরিচিত এমন কিছু লোকদের মাধ্যমে মসজিদ ও জন-সমাগমকে উপলক্ষ বানিয়ে বো=মা বিস্ফো=রণের ধারাবাহিকতা এখনও চলমান। এমনকি বর্তমান এর পরিমাণ খুব বেড়ে গিয়েছে। এটি যেন অর্থহীন দাবী না হয় এজন্য আমার জানা কিছু দু:খ জনক ঘটনা এখানে উল্লেখ করছি। আমার অজানা যেসব ঘটনা রয়েছে সেগুলো তো আরও ভয়ঙ্কর।

১। জারশাদ্দা এলাকার শিরবাউ গ্রামের মসজিদে ঈদের নামাজ চলাকালে আফতাব আহমাদ খান শিরবাউকে হত্যার করার জন্য একটি ব্যর্থ বিস্ফোরণ ঘটান হয়। এতে আফতান আহমাদ খানের পরিবর্তে গ্রামের পঞ্চাশের অধিক সাধারণ মানুষ নিহত হয়। এই আক্রমণের জন্য আদেশ দিয়েছিল টি-টি-পি লিডার বাইতুল্লাহ মা=হ=সুদ।

২। 'আমর বিল মা'রুফ ও নাহী আনীল মুনকার' নামক দলের প্রধান হাজী নামদারকে হত্যা করার জন্য খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকার এক মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটান হয়। এই হাজী নামদার =ওজি=রিস্তানের তা=লি=বা=নদের নিকটভাজন ছিলো। এই বিস্ফোরণে সে নিহত না হলেও তার পরিবর্তে মসজিদে উপস্থিত গ্রামের ১৫ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়। এই হা=ম=লার আদেশও দিয়েছিল বাই=তুল্লা=হ মাহসুদ। তবে হাজী নামদার বেশ কয়েক মাস পরে একটি অনুষ্ঠানে নিহত। সেখানে উপস্থিত এক আত-তায়ীর আক্রমণে সে নিহত নয়।

৩। পেশোয়ারের কাছে জামরুদ নামক এক জায়গার এক মসজিদে জু'মার নামাজ চলাকালে বিস্ফেরণ ঘটান হয়। পঞ্চাশের অধিক মুসল্লী নিহত হয়। অসংখ্য আহত হয়। মসজিদটি পা-কিস্ত-ানের প্রশাসনিক বাহিনীর কাছাকাছি ছিলো। সেখানে কিছু সামরিক লোকও নিহত হয়। তবে মসজিদটি সর্ব-সাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিলো। সাধারণ চলাচলের পথে হওয়াই এলাকার লোকজন ও মুসাফিররা সেখানে নামাজ আদায় করত।

এভাবে অধিকাংশ ময়দানে অসংখ্য বিস্ফো=র=ণ ঘটান হচ্ছে। সেখানে হয়ত কোন সেনাবাহিনীর লোক কিংবা পুলিশ বা অথব তাদের চেয়ে নিচু স্তরের প্রশাসনিক কোন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে হা=মল=া করা হচ্ছে। অথবা এমন ব্যক্তিদেরকে উদ্দেশ্য করে হা=মল=া করা হচ্ছে যাদেরকে উদ্দেশ্য বানানোটা প্রশ্নবিদ্ধ। যেমন, প্রশাসনের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোন কোম্পানীর কর্মচারী। এসব আক্রমণ করা হচ্ছে জন-সমাগম, বাজার ও সাধারণে চলাচলের জায়গাগুলোতে। অথচ এই সব জায়গায় এজাতীয় আক্রমণের বিশেষ কোন প্রয়োজন ছিলো না। কারণ তাদেরকে আরও ভালো পরিকল্পনার মাধ্যমে আক্রমণ করা যেত। অথবা বাজার, জন-সমাগম কিংবা লোকে-লোকারণ্য এলাকার বাইরে গিয়ে আক্রমণ করা।

খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত জেলার সাধারণ স্টেডিয়ামে আক্রমণ করা হয়। উপস্থিত ও খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে এক শ'র বেশি মানুষ নিহত হয়। এখানে আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিলো, সেখানে কিছু লোক ছিলো যারা লস্কা=রে তৈ=য্যেবার সদস্য বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। অথচ এটি একবারও প্রমাণিত হয়নি যে, এই গ্রুপটি এর পূর্বে কখন মু=জা=হিদীনকে উদ্দেশ্য করে কোন আক্রমণ চালিয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক আক্রমণের পর এই এলাকায় কেউ চেকপয়েন্টে তালি=বা=ন না হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ হওয়া ছাড়া ঢুকতে পারে না। বলা হয়ে থাকে, এই আক্র=মণের পিছনে ছিলো উত্তর ওয়া=জিরিস্তানের বদর মানসুর নামক এক তা=লি=বান নেতা।

৪। দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের জানদুলা নামক জায়গার একটি খাবার হোটেলে তুর্কিস্তা=ন বাত্তানী ও ক্বারী যাইনুদ্দীনের কিছু অনুসারীকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরণ ঘটান হয়। এই ক্বারী যাইনুদ্দীন বাত্তানীর সহযোগী ছিলো। এই হাম-লা-য় বাত্তানীর গ্রুপের মাত্র দু'ব্যক্তি নিহত হলেও সেখানে উপস্থিত প্রায় দশজন সাধারণ মানুষও নিহত হয়। যারা বাত্তানী ও মা-হ-সুদের এলাকার লোক ছিলো।

৫। প্রায় তিন মাস আগে খাইবার পাখতুনখোয়ার মোহমান্দ জেলার আঞ্চলিক বিচার ব্যবস্থা বা জিরগাকে উপলক্ষ্য বানিয়ে বড় ধরণের বিস্ফোরণ ঘটান হয়। হা-ম-লাকারীরা মনে করেছিলো, যেখানে আক্রমণ করেছে সেখানে জিরগা বা বিচার বসবে। অথচ সতর্কতা হিসেবে অন্য একটি জায়গায় জিরগা হয়। এই আক্রমণে একশ'র বেশি মানুষ নিহত হয়। অধিকাংশ বা প্রায় সবাই ছিলো সাধারণ ব্যবসায়ী ও বাজারের লোক। এদের সাথে জিরগার কোন সম্পর্ক ছিলো না। মোহমান্দ জেলার তা=লি=বানের মুখপাত্র এহসানুল্লাহ এহসান এই হা=মলার দায় স্বীকার করে। সে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার কারণে আফসোস প্রকাশ করে। অন্ত:ত তার এই প্রকাশ্য দু:খ প্রকাশকে আমি ধন্যবাদ দেই।

৬। ইসলামাবাদ ইউনিভার্সিটিতে বিস্ফোরণ ঘটান হয়। এতে বহু সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী নিহত হয়। এর দায় স্বীকার করে কারী হুসাইন মাহসু-দ।

৭। আ-ফ-গ-ানিস্তানের তা=খর প্রদেশের তালিকান নামক এলাকার প্রধান মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটান হয়। এই হা=মলার লক্ষ্যবস্তু ছিলো কু=ন্দুজের গভর্ণর ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ উমর। সেখানে তার পাশে প্রায় ত্রিশজন মুসল্লী নিহত হয়।

 

 

[চলবে ...]

নোট: এখানে কা=য়=দার লিডার এই ধরণের আক্রমণের সমালোচনা করছে এর অর্থ এই নয় যে, তারা এগুলো থেকে মুক্ত। সিভিলিয়ান হত্যার ক্ষেত্রে কেউ কারও থেকে কম নয়। নাইন ইলাভেনের মতো শো-ডাউন হয়েছে এই কা=য়=দার হাতে। এছাড়া কায়ে=দার অঙ্গ-সংগঠনগুলো আ=ল-জেরিয়া থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা ময়-দানেই রক্তপিপাসু ড্রাকুলা হয়ে ওঠেছে। যার কিছু উদাহরণ আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি। পরবর্তীতে সো=মালি=য়ায় এদের অপকর্ম নিয়েও আমরা আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ।

------ ------

এই বিষয়ে আরও জানতে চান?

আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।

নির্ভরযোগ্য গোপনীয় দ্রুত উত্তর

মন্তব্য 0

আপনার মন্তব্য জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্যকারী হোন! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।

লেখকের আরো ব্লগ

আক্বিদা

সালাফী আক্বিদা কেন বাতিল এবং সালাফীরা কেন পথভ্রষ্ট?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 71
আক্বিদা

মিলাদ ইত্যাদি নিয়ে এতো এতো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, এটা ছেড়ে দিলে সমস্যা কোথায়?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 78
ফিকহ

তারাবীর নামাযের ইমামতির হাদিয়া গ্রহণ: শরয়ী দৃষ্টিকোণ

ইজহারুল ইসলাম · 13 মার্চ, 2026 · 683
আক্বিদা

ইবনে উমর রা: এর শানে ইবনে তাইমিয়ার বেয়াদবি ও শিরকের অপবাদ (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম · 30 জুন, 2023 · 81