ইলম

চিকিৎসা খাতে হারাম জিনিসের ব্যবহার: কিছু আপত্তি ও তার জবাব

ইজহারুল ইসলাম রবি, 12 সেপ্টে., 2021
13

ছোটকাল থেকেই বিভিন্ন ফার্মেসীতে থানবী রহ. দন্ত-শেফা নামে একটা সাইনবোর্ড দেখে আসছি। এখনও ঢাকা শহরের বিভিন্ন ফার্মেসীতে এটি দেখা যায়। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি তথা রসায়ন নির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতির আগে পৃথিবীতে ভেষজ চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল। ইউনানী, আয়ূর্বেদীসহ বিভিন্ন হেকিমি চিকিৎসা পদ্ধতিতে মানুষ তাদের  রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করত। বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে মানুষ যান্ত্রিক সভ্যতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে দূরে সরে এসেছে। বাহ্য দৃষ্টিতে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ক্যামিস্ট্রি নির্ভর হলেও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রাণী ও গাছ-গাছড়ার ব্যবহার থেকে মুক্ত হতে পারে নি। আমরা হয়ত ফার্মেসী থেকে এক বোতল সিরাপ, কিংবা এক পাতা ক্যাপসুল কিনে খেয়ে নেই, কিন্তু এই সিরাপ বা ক্যাপসুল কীসের থেকে তৈরি সেটি খেয়াল করি না। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেও গাছ-পালা ও প্রাণীদের বিভিন্ন উপাদান থেকে হাজারও ঔষুধ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে আমরা সম্পূর্ণ ডাক্তার নির্ভর হওয়ার কারণে কোন প্রাণী থেকে আহরিত ওষুধ সেবন করছি সেটি হয়ত খেয়াল করি না। বর্তমানের সাথে প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির একটি মৌলিক  পার্থক্য হল, প্রাচীন যুগে মানুষ সরারসি গাছপালা ও প্রাণীর বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করত, আধুনিক যুগে আমরা সেগুলোই ল্যাব থেকে  প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করছি।  নতুবা আধুনিক যুগেও প্রায় সত্তর ভাগ ওষুধ প্রকৃতি থেকে আহরণ করা হয়।

যেমন, ২০০৭ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, দীর্ঘ ২৫ বছর যাবৎ আমেরিকায় যে ঔষধ তৈরি হয়েছে এর সত্তরভাগ প্রাকৃতিক উপাদান থেকে নেয়া হয়েছে। 

“Around 70 percent of all new drugs introduced in the United States in the past 25 years have been derived from natural products, reports a study published in the March 23 issue of the Journal of Natural Products. The findings show that despite increasingly sophisticated techniques to design medications in the lab, Mother Nature is still the best drug designer.

“Read more at

http://news.mongabay.com/2007/0320-drugs.html#tgVzbhQ7OoBmMSqQ.99

আমাদের চোখের আড়ালে ল্যাবে যে ওষুধ তৈরি হয়ে লিকুইড বা ট্যাবলেট হয়ে আমাদের কাছে আসছে, সেগুলো বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও গাছ-পালা থেকে তৈরি হচ্ছে। মুসলিম হিসেবে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, নিত্যদিন আমরা যেসকল ঔষধ ব্যবহার করছি, এর কতগুলো হালাল? ঔষধের উপাদান হিসেবে যেসব উপাদান ব্যবহার করছে সেগুলো কতটুকু হালাল? বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও গাছপালা থেকে ওষুধ তৈরি হচ্ছে, এর সবগুলোই কি হালাল?এর সহজ উত্তর হল, অবশ্যই না। ঔষধে অ্যালকোহলের ব্যবহার একটি সাধারণ বিষয়। অ্যালকোহল হারাম এটি সবারই জানা। এছাড়াও শুকর থেকে বর্তমানে বহু ঔষধ তৈরি হয়। শুকর ছাড়াও অনেক হারাম প্রাণি থেকে ঔষধ তৈরি হয়। বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানি বর্তমানে যে ঔষধ সরবরাহ করে, অধিকাংশ ঔষধে উপাদান লেখা থাকলেও উপাদানগুলো কোন প্রাণী থেকে আহরিত সেগুলো লেখা থাকে না। এটি মুসলমানদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা । বৃটিশ মেডিকেল জার্নাল এর রিপোর্ট অনুযায়ী,”বর্তমানে প্রায় চারটি মেডিসিনের তিনটিতে বিভিন্ন প্রাণী থেকে আহরিত উপাদান ব্যবহৃত হয়।”ইংল্যান্ডে একশজন ডাক্তারের উপর জরিপ করে দেখা গেছে, ৭৪ জনের প্রেসক্রিপশনে প্রাণী থেকে আহরতি উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে শুকর, গরু থেকে আহরিত উপাদান রয়েছে। 

The claim: Nearly three out of four common medications include animal-derived ingredients, according to a new study in the British Medical Journal. Bad news, if you’re a vegetarian.The research: One hundred commonly prescribed drugs in the UK were studied, and 74 of them had lactose, gelatin, or magnesium stearate—ingredients that come from cows, pigs, and fish. Gelatin is often used in capsules or coatings, and lactose and magnesium stearate are often mixed with the active ingredients of the drugs. What it means: The researchers say doctors and patients often aren’t aware that prescription drugs are made with animal by-products. Reading labels does not always help since they found many are unclear or inconsistent.

 [বিস্তারিত, http://www.prevention.com/health/healthy-living/medications-contain-animal-products ]

 

নীচে বিভিন্ন প্রাণী থেকে আহরতি উপাদানের একটি তালিকা রয়েছে। এটা দেখলে  ঔষধে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণির ব্যবহার সম্পর্কে সামান্য ধারণা সৃষ্টি হবে।  http://www.peta.org/living/beauty/animal-ingredients-list/

প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে শুধু ভেষজ উদ্ভিদই ব্যবহৃত হত না, সেই সাথে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী থেকে আহরিত বহু উপাদান ব্যবহৃত হত। এমনকি এখনও চিকিৎসা হিসেবে  এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষভাবে যৌন রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখনও অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার চেয়ে হেকিমি চিকিৎসা জনপ্রিয়। হেকিমি চিকিৎসার উদাহরণ হিসেবে ইউনানী, আয়ুর্বেদী চিকিৎসা বিখ্যাত। যান্ত্রিক সভ্যতায় অভ্যস্ত হওয়ার কারণে আমাদের নিত্যদিনের পথ্যে কী কী উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে আমরা বেখবর।  চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোন গাছ-গাছড়া বা প্রাণীর কথা শুনলেই বিষয়টি আমাদের কাছে অপরিচিত মনে হয়। পর্দার আড়ালে আসলে কী হচ্ছে, সেটা না জানার কারণেই আমাদের মাঝে এধরনের মানসিকতা তৈরি হয়েছে। নতুবা সকল চিকিৎসা পদ্ধতিই গাছ-গাছড়া ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণির উপর নির্ভরশীল। 

আধুনিক বায়োকেমিস্ট্রির উন্নতির পূর্বে আমাদের পূর্বপুরুষগণ চিকিৎসার জন্য হেকিমি চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল ছিলেন। সেই সাথে মুসলিম হিসেবে আমরা তিব্বে নববীর ব্যবহারও করে আসছি। বিভিন্ন সময় রাসূল স. যেসব চিকিৎসা পদ্ধতির কথা বলেছেন, সেগুলোই তিব্বে নববী হিসেবে পরিচিত। এর সাথে পরবর্তীতে যোগ হয়েছে শরীয়ত সম্মত রুকিয়া বা তা’বীজ ব্যবস্থা। সালাফে-সালেহীন থেকে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে বহু রুকিয়া বা তা’বীজের কথা বর্ণিত হয়েছে। এগুলো এক দিকে যেমন উপকারী, সেই সাথে সম্পূর্ণ শরিয়ত সম্মত। কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী তা’বীজের বিধান ভিন্ন । এগুলোর ব্যবহার জায়েজ নয়। কিন্তু কুরআন-সুন্নাহ সম্মত রুকিয়া বা তা’বীজের ব্যবহার সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে – সালেহীনের গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। যেসব সালাফী আলেম তা’বীজকে শিরক বলার চেষ্টা করেন, তারাও রুকিয়ার পক্ষে বহু ফতোয়া দিয়েছেন। 

http://ruqya.net/ সাইটে রুকিয়া সম্পর্কে সালাফী আলেমদের অসংখ্য ফতোয়া রয়েছে। শায়খ ইবনে উসাইমিন সহজে বাচ্চা প্রসব সহজ হওয়ার রুকিয়া বলে দিয়েছেন। এবং নিজের অভিজ্ঞতালব্ধ রুকিয়ার কথাও আলোচনা করেছেন। বিশেষভাবে ইবনুল কাইয়্যিম রহ. তার ‘আত-তিব্বুন নববী” কিতাবে ইসলামী চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। রাসূল স. এর দেয়া ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন রুকিয়া সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। চিকিৎসা শাস্ত্রে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের পাশাপাশি রাসূল স. এর দেয়া বিভিন্ন ব্যবস্থাপত্র, বিভিন্ন দুয়া, রুকিয়া বা তা’বীজ ইসলামী চিকিৎসার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।

 বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অধিকহারে হারাম জিনিসের ব্যবহার একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। হারাম প্রাণি থেকে আহরিত উপাদান ও অ্যালকোহলের ব্যবহার খুবই সাধারণ বিষয়। এজন্য উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন হাদীসে হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করতে নিষেধ করা হয়েছে। এসব হাদীসের উপর ভিত্তি করে অধিকাংশ ফকীহ হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসাকে নাজায়েজ বলেছেন। কিছু কিছু হাদীস দ্বারা হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসার বৈধতারও প্রমাণ দেয়া যায়। এসব হাদীসের প্রতি দৃষ্টি রেখে কিছু কিছু উলামায়ে কেরাম তাদাবী বিল মুহাররম বা হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসাকে জায়েজ বলেছেন। উভয় মতের সকলেই এ বিষয়ে একমত যে, কেউ যদি হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করতে একান্ত বাধ্য হয় এবং হারাম জিনিস  ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসা না থাকে, তাহলে তার জন্য প্রয়োজন অনুপাতে হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসার অনুমতি দেয়া হবে। কারণ পবিত্র কুরআনে জীবন সংকটাপন্ন হলে হারাম জিনিস ভক্ষণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। দুররুল মুখতারে হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসার একটি সুস্পষ্ট মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মূলনীতির আলোকে বিষয়গুলোকে যাচাই করতে হবে। 

يرخص (أي التداوي بالمحرم) إذا علم فيه شفاء ولم يعلم دواء غيره (الدرالمختار1:210)”

হারাম জিনিসের মাঝে চিকিৎসা সুনিশ্চিত হয় এবং এটি ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসা না থাকে, তাহলে হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসার অনুমতি দেয়া হবে “[ আদ-দুররুল মুখতার, খ.১, পৃ.২১০]

হানাফী মাজহাবের কোন ফিকহের কিতাবে কিংবা কোন আলেমের লেখায়  বাহ্যিক দৃষ্টিতে হারাম বা শরীয়তবিরোধী কোন চিকিৎসা যদি লেখা থাকে, তাহলে এটি  সুনিশ্চিত যে, একান্ত বাধ্য হয়ে হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট। এধরনের চিকিৎসা সম্পর্কে বাস্তব অবস্থা স্পষ্ট না করে এই অপপ্রচার চালান যে, হানাফী মাজহাবে অমুক হারাম জিনিস ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে, তাহলে এটি সুস্পষ্ট মিথ্যা অপবাদ। একান্ত বাধ্য হয়ে কোন হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসা আর সাধারণভাবে হারাম জিনিস ব্যবহারের মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।

মাজহাবের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো এবং উলামায়ে কেরামের প্রতি সাধারণ মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত কিছু লোক এধরনের নোংরা প্রপাগান্ডা চালিয়ে থাকে। এরা কখনই মাসআলার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে না। কোন ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য সেটিও উল্লেখ করে না। মাসআলার খন্ডিত একটি অংশ নিয়ে ফেকাহ ও ইমামগণের উপর অপবাদ দিয়ে থাকে।  দু’টি বক্তব্য লক্ষ্য করুন, ১. “কুরআনে মৃত প্রাণীর গোশত খাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে ”  ২. “একান্ত বাধ্য হয়ে মৃত গোশত খাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে”। উভয়ের মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। যারা কুরআনের উপর মিথ্যাচার করতে চায়, তারাই কেবল প্রথম বক্তব্য প্রচার করবে। কিন্তু দ্বিতীয় বক্তব্যে বাস্তব অবস্থাও উঠে এসেছে।মাজহাব ও ইমামগণের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াতে আহলে হাদীসদের এধরনের প্রপাগান্ডা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এরা ফতোয়ায়ে আলমগীরের বিরুদ্ধে বই লিখেছে। খোজ নিলে দেখবেন, এদের সবগুলো দাবী হয়ত প্রপাগান্ডা নতুবা নিজেদের ভুল অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা। অনেকক্ষেত্রে এদের সালাফী-আহলে হাদীস আলেমরাও একই ফতোয়া দিলেও তারা এগুলো আলোচনা না করে হানাফী মাজহাবের বিরুদ্ধে মিথ্যার বেসাতি তৈরি করে। মোটকথা, আশরাফ আলী থানবী রহ. এর আমালে কুরআনী কিতাবে কিংবা থানবী রহ. এর মুরীদ আহমাদ আলী রহ. এর লেখা বেহেশতী জেওরে যদি বাহ্য দৃষ্টিতে কোন হারাম চিকিৎসা পদ্ধতি থাকে, তাহলে এটি উপর্যুক্ত মূলনীতির আলোকেই লেখা হয়েছে। অর্থাৎ একান্ত বাধ্য অবস্থায় প্রয়োজন অনুপাতে হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসা সংক্রান্ত মূলনীতি।

আপনি সালাফী আলেমদের ফতোয়াগুলো যাচাই করেন, তাহলে এধরনের অসংখ্য অনুমতি দেখতে পাবেন। বিশেষভাবে islam Q&A তে এধরনের বহু ফতোয়া দেখতে পাবেন। মদ অল্প হোক কিংবা বেশি এটি হারাম। কিন্তু চিকিৎসার প্রয়োজনে ড.সালেহ আল-মুনাজ্জিদ প্রয়োজনীয় অ্যালকোহল ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। বর্তমানে এধরনের ফতোয়া প্রত্যেক আলেমই দিয়েছেন। সুতরাং চিকিৎসার প্রয়োজনে একান্ত বাধ্য অবস্থায় যেসকল মাসআলা বেহেশতী জেওরে লেখা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে যারা অভিযোগ করে, তারা তাদের আলেমদের এসকল ফতোয়ার উপর কখনো অভিযোগ করে না। তাদের এই দ্বিমুখী আচরণ থেকে তাদের মূল উদ্দেশ্য আমাদের কাছে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। 

বিভিন্ন জরিপ থেকে স্পষ্ট, আমাদের দৈনন্দিন চিকিৎসায়  যেসকল ঔষধ ব্যবহার করা হয় সেখানেও প্রচুর হারাম জিনিস থাকে। শুকর থেকে কী পরিমাণ ঔষধ আহরণ করা হয়, সেটা দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন। আমাদের আহলে হাদীস-সালাফী ভাইয়েরা যাচাই-বাছাই ছাড়া এগুলো ব্যবহার করছেন, কিন্তু আঙ্গুল তুলছেন হানাফী মাজহাবের আলেমদের প্রতি। ইনসুলিনের বিষয়টি ধরা যাক। ইনসুলিন উৎপাদনের অনেক পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ইনসুলিন শুকরের পরিপাকতন্ত্র তৈরি হয়। ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত আহলে হাদীস ভাইয়েরা কি কখনও এটি যাচাই করে ব্যবহার করেন যে, এটি কীসের থেকে আহরিত? কোন মুসলমান যদি আমেরিকায় থাকে, আর সেখানে শুধু শুকর থেকে তৈরি ইনসুলিন পাওয়া যায়, তাহলে সেখানকার মুসলমানদের জন্য করণীয় কী? আমাদের আহলে হাদীস ভাইয়েরা এর সমাধান দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।  ইসলাম শুধু জোরে আমীন, আর রফয়ে ইয়াদাইনের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, মানব জীবনে প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধানও ইসলাম দিয়েছে। এসকল সমস্যা সমাধানের জন্যই ফিকহের প্রয়োজন। আল্লাহর কসম, ফিকহ ছাড়া আধুনিক যুগের একটি মাসআলাও এসব আহলে হাদীসরা সমাধান করতে পারবে না। আর এসব সমস্যার সমাধান যদি না করা হয়, তাহলে পদে পদে বিভিন্ন হারামে লিপ্ত হয়ে জাহান্নামী হতে হবে।

যেসব আহলে হাদীসরা ফেকাহ ও ফকীহ ইমামগণের বিরোধীতা করে, এদের কাছে আধুনিক যে কোন একটি জটিল মাসআলা দিয়ে শুধু কুরআন ও হাদীস থেকে সমাধান আনতে বলুন। যেমন, ইন্সুরেন্স বৈধ কি না, এজাতীয় যে কোন একটি মাসআলা দিলেই হবে। নিমিষেই সকল দম্ভ বের হয়ে অকল্পনীয় নমনীয়তা দেখতে পাবেন। সমালোচনা করা অনেক সহজ, কিন্তু সমাধান করা অনেক কঠিন। পেশাব একটি নাপাক বস্তু। পেশাব থেকে পবিত্র না হওয়ার কারণে কবরে শাস্তি হবে। অথচ বোখারী শরীফে রয়েছে, রাসূল স. উরাইনা গোত্রের লোকদেরকে চিকিৎসার প্রয়োজনে উটের পেশাব খাওয়ার আদেশ দিয়েছেন। এই হাদীস থেকে কিছু কিছু ফকীহ হালাল প্রাণির পেশাবকে পাক বলেছেন। কিন্তু গ্রহণযোগ্য ফতোওয়া হল, এটি নাপাক। হালাল প্রাণির পেশাব পাক ধরা হলেও পেশাব খাওয়ার বিষয়টি কেবল চিকিৎসার প্রয়োজনেই হতে পারে। রাসূল স. চিকিৎসার প্রয়োজনে উরাইনা গোত্রের লোকদেরকে পেশাব খাওয়ার আদেশ দিয়েছেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে হারাম জিনিসের ব্যবহারের উপর যারা অভিযোগ করেন, তাদের এই হাদীসের উপরও অভিযোগ করা উচিৎ। 

------ ------

এই বিষয়ে আরও জানতে চান?

আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।

নির্ভরযোগ্য গোপনীয় দ্রুত উত্তর

মন্তব্য 0

আপনার মন্তব্য জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্যকারী হোন! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।

লেখকের আরো ব্লগ

আক্বিদা

সালাফী আক্বিদা কেন বাতিল এবং সালাফীরা কেন পথভ্রষ্ট?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 71
আক্বিদা

মিলাদ ইত্যাদি নিয়ে এতো এতো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, এটা ছেড়ে দিলে সমস্যা কোথায়?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 78
ফিকহ

তারাবীর নামাযের ইমামতির হাদিয়া গ্রহণ: শরয়ী দৃষ্টিকোণ

ইজহারুল ইসলাম · 13 মার্চ, 2026 · 683
আক্বিদা

ইবনে উমর রা: এর শানে ইবনে তাইমিয়ার বেয়াদবি ও শিরকের অপবাদ (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম · 30 জুন, 2023 · 81