আক্বিদা

সূফীদের সংগ্রামী জীবন

ইজহারুল ইসলাম রবি, 12 সেপ্টে., 2021
41

তাজকিয়া, তাসাউফ, যুহদ বা আত্মশুদ্ধির মেহনত অন্যতম একটি ফরজ বিধান। আত্মার ব্যাধি থেকে মুক্ত না হলে  বাহ্যিক আমলের সত্ত্বেও শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। রাসূল স. ইরশাদ করেছেন, যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। সুতরাং অহংকার নামক আত্মিক ব্যধিসহ অন্যান্য ব্যাধি থেকে মুক্ত হতে হবে। একেই তাজকিয়া, তাসাউফ বা জুহদ বলে।

আত্মার ব্যাধি থেকে মুক্ত হওয়া ফরজে আইন। প্রত্যেক মুসলিমকে এগুলো থেকে পরিশুদ্ধি অর্জন করতে হবে। লোভ, লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার, পরশ্রীকাতরতা, কু-ধারণা, ক্রোধ মানুষের অন্তরে সুপ্ত মারাত্মক কিছু রোগ। এগুলো থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়াসী হওয়া আবশ্যক।

তাসাউফ বা তাজকিয়ার সারমর্ম হলো,

১. প্রকাশ্য ও গোপনে তাকওয়া অবলম্বন । (আল্লাহর ভয়ে সকল গোনাহ থেকে দূরে থাকা)

২. কথা ও  কাজে সর্বদা সুন্নাহর  অনুসরণ।

৩. সর্বদা আল্লাহর প্রতি ভরসা ও সৃষ্টি থেকে বিমুখ থাকা।

৪.সুখ-দুখে সদা-সর্বদা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা।

৫. সুখে-দুখে আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ করা। (বিপদে আল্লাহকে স্মরণ করা আর সুখের সময় ভুলে যাওয়ার মতো অকৃতজ্ঞ আচরণ না করা)

একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখবেন, এগুলোই হলো শরীয়তের মূল। ইসলাম একজন মু’মিন থেকে এগুলোই চায়।  আমাদের প্রত্যেকের কাংখিত মনজিল উল্লেখিত পাচটি মৌলিক বিষয়।  এজন্যই সালাফে-সালেহীন জুহদ, তাকওয়া ও তাজকিয়ার প্রতি সীমাহীন গুরুত্ব দিয়েছেন।

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন,

ومنها أن هذا العلم (التصوف) هو من أشرف علوم العباد وليس بعد علم التوحيد أشرف منه وهو لا يناسب إلا النفوس الشريفة

অর্থ: বান্দার জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইলম হলো তাসাউফের ইলম।  তাউহীদের ইলমের পরে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন ইলম নেই।  সম্মানিত অন্তর কেবল এটি অর্জন করতে পারে।

[ত্বরিকুল হিজরাতাইন, ইবনুল কাইয়্যিম রহ. পৃ. ২৬০-২৬১]

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বুজুর্গদের মজলিশ সম্পর্কে  গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা বলেছেন। এই বক্তব্যে তাসাউফের মৌলিক বিষয়গুলি উঠে এসেছে। সেই সাথে তাসাউফের প্রকৃত চর্চাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হয়েছে। কেননা যাদের মজলিশে বসলে নীচের বিষয়গুলি অর্জিত হয় না, তাহলে বাস্তবে কোন ওলী-বুজুর্গ নয়।

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন,

وقيل : مجالسة العارف تدعوك من ست الي ست : من الشك إلي اليقين , ومن الرياء الي الإخلاص , ومن الغفلة الي الذكر , ومن الرغبة في الدنيا الي الرغبة في الاخرة , ومن الكبر الي التواضع , ومن سوء الطوية الي النصيحة

অর্থ: সূফীগণ বলেন, বুজুর্গ ব্যক্তির মজলিশ তোমাকে ছয়টি বিষয় থেকে মুক্ত হয়ে ছয়টি গুণ অর্জনে উদ্বুদ্ধ করবে।

১. সন্দেহ থেকে ইয়াকীনের দাওয়াত দিবে।

২. রিয়া (লৌকিকতা) থেকে ইখলাসের দাওয়াত দিবে।

৩. গাফলত (উদাসীনতা) থেকে জিকরের দাওয়াত দিবে।

৪. দুনিয়ার আসক্তি থেকে  পরকালের আসক্তির দিকে দাওয়াত দিবে।

৫. অহংকার থেকে বিনয়ের দাওয়াত দিবে।

৬. পরশ্রীকাতরতা ও হিংসা থেকে অন্যের কল্যাণকামিতার দাওয়াত দিবে।

[মাদারিজুস সালিকীন, ইবনুল কায়্যিম রহ. খ.৩, পৃ.৩৩৫]

যুহদ ও তাজকিয়া মূলত: সাহাবায়ে কেরামের মাঝে সবচেয়ে বেশি ছিলো।  পরবর্তীতে তাবেয়ীগণও এগুলো চর্চা করে উম্মাহের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন।  গোনাহমুক্ত জীবন, অধিক ইবাদত, দুনিয়া বিমুখতা এগুলো যেমন সাহাবায়ে কেরামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিলো, একইভাবে তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগনও এগুলো দ্বারা নিজেদের জীবনকে অলংকৃত করেছেন।

“সালাফে-সালেহীনের ইবাদতময় জীবন (১-৩)”  শিরোনামে আমরা তাদের যুহদের সামান্য চিত্র তুলে ধরেছি। পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত আলোচনার নিয়ত রয়েছে। তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল তাকওয়ার রঙে উজ্জল।  মূল ধারার তাসাউফ মূলত: সাহাবা ও তাবেয়ীগণের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে।  তাসাউফের মৌলিক বিষয়গুলো তাদের থেকেই উম্মত গ্রহণ করেছে। যেকোন একজন তাবেয়ীর জীবনী পর্যালোচনা করে দেখুন, তাদের ইবাদত, দুনিয়া বিমুখতা ও গোনাহমুক্ত সুন্নাহ সম্মত জীবন আপনাকে বিস্মিত করবে।  জীবনের ছোট্র একটি গোনাহের কারণে  তারা বছরের পর বছর কান্নাকাটি করে তৌবা করেছেন।  এগুলোই হলো প্রকৃত তাসাউফ।

মূল ধারার তাসাউফ থেকে বিচ্যুত মাজারপূজারী ভন্ড পীর-ফকিরদের শরীয়ত বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে তাসাউফের দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। এরা মূল ধারার তাসাউফ থেকে যোজন যোজন দূরে। বাস্তবতা হলো, শরীয়ত বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত ব্যক্তি যে নামেই সমাজে আত্মপ্রকাশ করুক, সে পরিত্যাজ্য। তাসাউফের বিখ্যাত ইমামগণ বলেছেন, তুমি যদি কাউকে বাতাসে উড়তে কিংবা পানিতে হাঁটতে দেখো, শরীয়তের মানদন্ডে উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ওলী-বুজুর্গ ভেবো না।  বাহ্যিকভাবে কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত বিরোধী ব্যক্তি থেকে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ঘটনা প্রকাশিত হলেও সে ভন্ড প্রতারক। শরীয়ত বিরোধী কেউ কখনও আল্লাহর প্রিয়ভাজন হতে পারে না।

মূল ধারার তাসাউফ চর্চাকারী সালাফে- সালেহীন শরীয়তের সকল বিধি-বিধান পালন করতেনা।  শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান হলো কিতাল ও জিহাদ। আল্লাহর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার সর্বোচ্চ স্তর এটি।  মূল ধারার  সূফীগণ এই সর্বোচ্চ সুযোগকে হাত ছাড়া করতেন না।  এজন্যই তো সালাফে-সালেহীন সম্পর্কে প্রবাদ রয়েছে,  তারা ছিলেন রুহবানুল-লাইল, ফুরসানুন নাহার (রাতে আবেদ, দিনে অশ্বারোহী)।

নফস বা প্রবৃত্তি দুনিয়ার লোভ-লালসা ও ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকার দাওয়াত দেয়। নফসের এই দাওয়াত উপেক্ষা করে, নফসের জিহাদে জয়ী হয়েই কেবল নিজেকে কিতালের ময়দানে পেশ করা সম্ভব।  নফসের গোলাম কখনও কিতালের ময়দান মাড়ায় না। মূল ধারার সুফীগণ নিজেদের প্রবৃত্তি দমন করেছিলেন। প্রবৃত্তির চাহিদা উপেক্ষা করে জীবনে মায়া ত্যাগ করে কিতালের ময়দানে নিজেদেরকে সঁপে দিতেন। নফসের সাথে জিহাদ করে পরাজিত হয়ে ময়দান থেকে দূরে থাকতেন না। বেঁচে থাকার সীমাহীন আকাঙ্খা ও প্রবৃত্তির তাড়নাকে গলাটিপে হত্যা করে বীরদর্পে এগিয়ে যেতেন তারা। প্রবৃত্তির জিহাদকে মূল বানিয়ে নফসের কাছে আত্মসমর্পণ করে বসে থাকতেন না।  গোনাহমুক্ত, যুহদ ও তাকওয়ার রঙে রঙ্গিন এসব সংগ্রামী সূফীদের সংক্ষিপ্ত জীবনী  তুলে ধরতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।  পরবর্তী পর্বগুলোতে ইনশাআল্লাহ তাদের জীবনী আলোচনা করা হবে।

আলকমা ইবনে মারসাদ রহ. (মৃত:১২০ হি:) বলেন,

আটজন তাবেয়ীর মাঝে জুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) সবচেয়ে বেশি ছিল। তারা হলেন,

১. আমের বিন আব্দুল্লাহ রহ.।

২.উয়াইস কারনী রহ.।

৩.হারাম ইবনে হাইয়্যান।

৪. রবী ইবনে খাইসাম।

৫.আবু মুসলিম খাওলানী রহ.।

৬.আসওয়াদ ইবনে ইয়াজীদ রহ.।

৭.মাসরুক ইবনে আজদা রহ.।

৮.হাসান বসরী রহ.।

[জুহদুস সামানিয়া মিনাত তাবেয়ীন, রিয়াতু ইবনে আবি হাতিম, তাহকীক, আব্দুর রহমান ফারতুয়ানী]

এই আটজনকে তাজকিয়া, জুহদ ও তাসাউফের ইমাম ও শিরোমণি মনে করা হয়। গবেষক আলেমগণ বলেছেন, এদের হাতেই মূলত: জুহদ ও তাসাউফ বিকশিত হয়। এজন্যই তাসাউফ ও জুহদের  উপর লিখিত অধিকাংশ কিতাবে তাদের জীবন  ও কর্ম আলোচিত হয়েছে।

উপর্যুক্ত আটজন তাবেয়ীর মাঝে সাতজন ছিলেন আল্লাহর পথের মুজাহিদ। তারা জিহাদের ময়দানে অংশগ্রহণ করে কুফফারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন।

১. উয়াইস কারনী রহ. ।

 খাইরুত তাবেয়ীন হযরত উয়াইস কারনী রহ.। সাহাবায়ে কেরামকে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তার কাছ থেকে দুয়া চাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন রাসূল স.। তার শাফায়াতে রবীয়া ও মুজার গোত্রের মতো অধিক সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে । [তারিখুল ইসলাম, ইমাম যাহাবী রহ. , খ.২, পৃ.৫৫৮, আল-ইসাবা, ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বর্ণনা নং ৫০০]

ঐতিহাসিকগণ এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন যে, তিনি কোন এক যুদ্ধে ইন্তেকাল করেছেন। তবে কোন যুদ্ধ এবং কোন জায়গায় ইন্তেকাল করেছেন এ বিষয়ে মতানৈক্য করেছেন।

ইমাম ইবনে আসাকির রহ. বলেন,

خرج أويس راحلا إلي ثغر أرمينيا فأصابه البطن ، فألتجا إلي أهل خيمة فتوفي هناك

অর্থ: আমেনিয়ার সাগার নামক অঞ্চলে যুদ্ধের উদ্দেশ্য উয়াইস কারনী রহ. সফর করেন। হঠাৎ তিনি পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হন। পীড়ার কারণে একটি তাবুতে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন। সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

[তাহজীবু তারিখে দিমাশক, খ.৩, পৃ.১৭৭]

আব্দুল্লাহ ইবনে সালিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

অর্থ: আমরা হযরত উমর রা. এর খেলাফতকালে আজারবাইজানে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আমাদের সাথে উয়াইস কারনী  ছিলেন। আমরা যখন যুদ্ধ থেকে ফিরছিলাম,  তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন।  তিনি আরোগ্য লাভ করলেন না। ফলে সেখানেই ইন্তেকাল করলেন। আমরা সেখানে উপস্থিত হলাম। কাফন প্রস্তুত ছিলো। কবর খোড়া হয়ে গিয়েছিল। গোসলের পানিও প্রস্তুত ছিলো।  আমরা তাকে গোসল দিলাম। কাফন পরিয়ে জানাজা সম্পন্ন করলাম। এরপর দাফন করলাম। আমাদের কিছু সাথী পরবর্তীতে বলল, চলো তার কবর চিনে রাখি। সেখানে গিয়ে দেখি, সেখানে কোন কবর নেই। কবরের চিহ্নও নেই।

[সিফাতুস সাফওয়া, ইবনুল জাওযী রহ. খ.৩, পৃ.৫৬,  হিলয়াতুল আউলিয়া, খ.২, পৃ.৮৩]

কোন কোন ঐতিহাসিক বলেছেন, তিনি সিফফীন অথবা নাহাওয়ান্দের যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন।

২. আবু মুসলিম খাওলানী রহ.

বিখ্যাত তাবেয়ী ও বুজুর্গ ছিলেন। অসংখ্য কারামত তার হাতে প্রকাশিত হয়েছে। মিথ্যা নবুওয়াতের দাবীদার আসওয়াদ আনাসী তাকে আগুনে নিক্ষেপ করেছিল। কিন্তু আগুন তার কোন ক্ষতি করেনি। এরপর তিনি ইয়ামান থেকে মদীনায় এলেন। হযরত উমর রা. তাকে চুম্বন করে কেঁদে ফেললেন। এবং বললেন, সেই রবের প্রশংসা, যিনি আমাকে মুহাম্মাদ স. এর উম্মতের মাঝে এমন এক ব্যক্তিকে দেখার সৌভাগ্য দিয়েছেন, যার সাথে ইব্রাহীম আ. এর মতো আচরণ করেছেন।

আবু মুসলিম খাওলানী রহ. সম্পর্কে ইবনে কাসীর রহ. বলেন,

وكان ملازما للجهاد  وفي كل سنة يغازي بلاد الروم وله مكاشفات، وأحوال و كرامات كثيرة جدا

অর্থ: আবু মুসলিম খাওলানী রহ. নিয়মিত জিহাদে অংশগ্রহণ করতেন।  প্রত্যেক বছর রোমকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন।  তার অনেক কাশফ, হালত ও অসংখ্য কারামত রয়েছে।

[আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খ.৮, পৃ.১৪৬]

৩.হারাম ইবনে হাইয়্যান রহ.।

বিখ্যাত আবেদ ও দুনিয়াত্যাগী  ছিলেন।  হযরত উমর ও উসমান রা. এর থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তার থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন ইমাম হাসান বসরী রহ.।

ইবনে সায়াদ ও অন্যান্য ঐতিহাসিক লিখেছেন, তিনি এক যুদ্ধে ইন্তেকাল করেন। [তবাকাতে ইবনে সায়াদ, খ.৭, পৃ.৯৪, তারীখুল ইসলাম, ইমাম জাহাবী, খ.৩, পৃ.২১২]

মৃত্যুর পূর্বে তিনি অসিয়ত করেছিলেন, তার রর্ম বিক্রি করে যেন ঋণ পরিশোধ করা হয়।

৪.আমের ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কাইস:

 তিনি প্রত্যহ এক হাজার রাকাত নামায আদায় করতেন। বিখ্যাত আবেদ ও জাহেদ  ছিলেন।

তার সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে ইবনুল জাওযী রহ. একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

কোন এক যুদ্ধে মুসলমানরা গণীমত একত্র করছিল। আমের বিন আব্দুল্লাহ রহ. একটি গণীমতের একটি থলি নিয়ে এলেন। গণীমত সংগ্রহে নিয়োগপ্রাপ্ত দায়িত্বশীলকে সেটি অর্পণ করলেন।

অন্যান্য মুসলিম বলল, এই গণীমত আমরা কখনও দেখিনি। আমাদের সংগৃহীত কোন গণীমতই এতো মূল্যবান বা এর কাছাকাছি নয়। তারা জিজ্ঞাসা করল, আপনি কে?

তিনি বললেন, না। আল্লাহর শপথ। আমি তোমাদেরকে আমার পরিচয় বলব না। তোমরা আমার প্রশংসায় মগ্ন হবে। অন্যদেরকেও আমার পরিচয় দিবো না।

তাদের মাঝে একজন তাকে অনুসরণ করতে শুরু করল। এমনকি তার সঙ্গীদেরক কাছে এসে তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করল। তারা বলল, ইনি হলেন আমের বিন কায়স।

[সিফাতুস সাফওযা, খ.৩, পৃ.১৩৯]

৫. রবী ইবনে খাইসাম রহ. (মৃত্যু:৬৭ হি:)।

তার সম্পর্কে বিখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন,

لو رأك رسول الله صلي الله عليه وسلم لأحبك

অর্থ: রাসূল স. যদি তোমাকে দেখলে অনেক মহব্বত করতেন।

[হিলয়াতুল আউলিয়া, খ.২, পৃ.১০৬]

অশ্বারোহী হয়ে একটি যুদ্ধ অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে এক জায়গায় তিনি নামায আদায় করছিলেন। তার সামনে থেকেই এক চোর ঘোড়া চুরি করে নিযে যায়। তিনি বলেন,  প্রভূর সাথে কথোপকথনে কোন কিছুই মনযোগ বিনষ্ট করতে পারে না। হে আল্লাহ, চোর যদি ধনী হয়, তাহলে তাকে হেদায়াত দান করো। আর যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তাহলে তাকে ধনী বানিয়ে দাও।

[আজ-জুহদ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ., পৃ.৩১৪]

৬.মাসরুক ইবনে আজদা আল-কুফী রহ.

তাবেয়ী মাসরুক রহ. বিখ্যা আবেদ ছিলেন। ইমাম শা’বী রহ. বলেন, ইমাম মাসরুকের ইন্তেকালের সময় তার কাছে কাফন ক্রয়ের মতো সম্পদ ছিলো না।

হিশাম আল-কালবী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইমাম মাসরুক রহ. কাদিসিয়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এ যুদ্ধে তিনি আহত হন।  আহতে হওয়ার কারণে তার হাত অবশ হয়ে যায়।

[হিলয়াতুল আউলিয়া, খ.৪, পৃ.১৫৫]

৭. হাসান বসরী রহ.।

তাসাউফের এমন কোন কিতাব নেই, যেখানে তার কথা আলোচনা করা হয়নি। তিনি তাসাউফের প্রথম সারির ইমাম ছিলেন।

ইবনে সায়াদ বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি হাসান বসরী রহ. কে জিজ্ঞাসা করল, হে আবু সায়াদ, আপনি কি যুদ্ধ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যা। আমি আব্দুর রহমান ইবনে সামুরার সাথে কাবুল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি।

[আত-ত্বাবাকাতুল কুবরা, খ.৩, পৃ.১৭৫]

ইমাম জাহাবী রহ. তাজকিরাতুল হুফফাজে লিখেছেন,

ولازم الجهاد ولازم العلم والعمل وكان أحد الشجعان الموصوفين

অর্থ: তিনি নিয়মিত জিহাদে অংশগ্রহণ করতেন । ইলম ও আমলে অগ্রণী ছিলেন।  যুদ্ধে বিখ্যাত বীরদের অন্যতম ছিলেন।

[তাজকিরাতুল হুফফাজ, খ.১, পৃ.৮১, এছাড়াও দেখুন, তাহজীবুত তাহজীব, ইবনে হাজার আসকালানী রহ. খ.১, পৃ.৪৮৩]

দ্বিতীয় হিজরী শতকের সূফীগণ

দ্বিতীয় হিজরী শতকের বিখ্যাত দুই বুজুর্গ, আবিদ ও জাহিদ হলেন, মুহাম্মাদ বিন ওয়াসি ও মালিক ইবনে দিনার। তারা উভয়ে তাসাউফের বড় ইমাম ছিলেন। হাসান বসরী রহ. এর সংশ্রবে ধন্য হোন। জুহদ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রসিদ্ধি আকাশচুম্বী।

মুহাম্মাদ বিন ওয়াসি:

ইমাম যাহাবী রহ. সিয়ারু আ’লামিন নুবালাতে মুহাম্মাদ ওয়াসি (মৃত:১২৩ হি:) এর পরিচয় দিয়েছেন এভাবে,

الإمام الرباني القدوة

অর্থ: আমাদের অনুসরণীয় আদর্শ আল্লাহ ওয়ালা বুজুর্গ ইমাম।

ইমাম মু’তামির তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন

ما رأيت أحدا قط أخشع من محمد بن واسع

অর্থ: আমি মুহাম্মাদ বিন ওয়াসি এর চেয়ে খোদাভীরু কাউকে কখনও দেখিনি।

[সিয়ারু আ’লামিন নুবালা]

জা’ফর ইবনে সুলাইমান বলেন,

 كنت إذا وجدت من قلب قسوة غدوت فنظرت إلى وجه محمد بن واسع كان كأنه ثكلى

অর্থ: যখনই আমি আমার কঠিন হয়ে যেত, আমি মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াসি এর কাছে চলে যেতাম।  এবং তার চেহারা দর্শন করতাম। এটাই যেন আমার কঠিন হৃদয়ের উপশম ।

[সিয়ারু আ’লামিন নুবালা]

হাম্মাদ ইবনে জায়েদ বলেন,

قال رجل لمحمد بن واسع اوصيني قال اوصيك أن تكون ملكا في الدنيا والآخرة قال كيف قال ازهد في الدنيا

অর্থ: এক ব্যক্তি মুহাম্মাদ বিন ওয়াসি’কে বলল, আমাকে কিছু ওসীয়ত করুন। তিনি বললেন, আমি তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাতের বাদশাহ হওয়ার অসিয়ত করছি। সে বলল, কীভাবে? তিনি বললেন, দুনিয়ার লোভ-লালসা ত্যাগ করে পরকালমুখী হও (জাহিদ হও)।

[সিয়ারু আ’লামিন নুবালা]

খুরাসানের আমির ও বিখ্যাত ইসলামী বীর সেনানী কুতাইবা ইবনে মুসলিম আল-বাহিলী (মৃত: ৯৬ হি:) মধ্য এশিয়া বিজয় করে ইসলামী শাসনাধীন করেন। তিনি প্রথম হিজরী শতকেই আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরান, চীনের কাশগর ও শিনজিয়াং অঞ্চলে ইসলামী পতাকা উড্ডীন করেন। বোখারা-সমরকন্দ, খাওয়ারিজম ও কাশগরের বিজেতা হিসেবে তিনি প্রসিদ্ধ।

বিখ্যাত বুজুর্গ মুহাম্মাদ ওয়াসি কুতাইবা ইবনে মুসলিমের সাথে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন। খুরাসান ও মধ্য এশিয়ার যুদ্ধগুলোতে তিনি কুতাইবা ইবনে মুসলিমের সেনাবাহিনীতে ছিলেন।

ইমাম ইসমায়ী বলেন,

قال الاصمعي لما صاف قتيبة بن مسلم للترك وهاله أمرهم سأل عن محمد بن واسع فقيل هو ذاك في الميمنة جامح على قوسه يبصبص بأصبعه نحو السماء قال تلك الاصبع أحب الي من مئة ألف سيف شهير وشاب طرير

অর্থ:

কুতাইবা ইবনে মুসলিম যখন তুর্কীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে সারিবদ্ধ করলেন, তুর্কিদের ব্যাপারে তার মনে সামান্য ভয়ের সঞ্চার হল।  তিনি মুহাম্মাদ বিন ওয়াসি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তাকে বলা হল, ওই তো  সে ডান দিকে ধনুকের উপর ভর করে বসে আছে। আসমানের দিকে হাত উঠিয়ে আঙ্গুল নাড়ছে (দুয়া করছে) । কুতাইবা বললেন,  তার এই আঙ্গুলগুলি আমার কাছে এক লাখ প্রসিদ্ধ তরবারী  ও এক লাখ বীর যোদ্ধা থেকে অধিক প্রিয়।

[সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, হিলয়াতুল আউলিয়া, খ.২, পৃ.৩৫৩]

ইবনে ওয়াসি রহ. খুব কম হাদীস বর্ণনা করতেন। অধিকাংশ সময় চুপ থাকতেন। তাকে আবদাল হিসেবে গণ্য করা হয়। [আজ-জুহদ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ, পৃ.৩০৭]

তার বেশ-ভূসা খুবই সাধারণ ছিলো । পশমের কাপড় পড়তেন। গভর্ণর মালিক ইবনুল মুনজির তাকে বিচারকের পদ গ্রহণের নির্দেশ করে। তিনি এটি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। গভর্ণর তাকে ডেকে পাঠান। এবং বলেন, তুমি বিচারকের পদ গ্রহণ করো, নতুবা তোমাকে তিন শ বেত্রাঘাত করবো। তিনি বললেন,

 إن تفعل فإنك مسلط وإن ذليل الدنيا خير من ذليل الآخرة

অর্থ: আপনি যদি বেত্রাঘাত করতে চান, সে ক্ষমতা আপনার আছে। তবে দুনিযার লাঞ্ছনা পরকালের লাঞ্ছনা থেকে অধিক উত্তম।

[সিয়ারু আ’লামিন নুবালা]

ইমাম ইবনে উয়াইনা রহ. বলনে,

قال ابن واسع لو كان للذنوب ريح ما جلس إلي أحد

অর্থ: ইবনে ওয়াসে রহ. বলেন, গোনাহের যদি দুর্গন্ধ থাকত, তাহলে কারও পাশে বসা যেত না।

[সিয়ারু আ’লামিন নুবালা]

https://ar.wikisource.org/wiki/%D8%B3%D9%8A%D8%B1_%D8%A3%D8%B9%D9%84%D8%A7%D9%85_%D8%A7%D9%84%D9%86%D8%A8%D9%84%D8%A7%D8%A1/%D9%85%D8%AD%D9%85%D8%AF_%D8%A8%D9%86_%D9%88%D8%A7%D8%B3%D8%B9

দ্বিতীয় হিজরী শতকের অন্যতম সূফী ছিলেন ইমাম মালিক ইবনে দিনার রহ। ত্বরীকত ও তাসাউফের শীর্ষস্থানীয় ইমাম ছিলেন তিনি। কুনুজুল আউলিয়া গ্রন্থকার বর্ণনা করেন, মালিক ইবনে দিনার রহ. দীর্ঘ দিন যাবৎ যুদ্ধে অংশ গ্রহণের অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান ছিলেন। পরবর্তীতে যুদ্দের উদ্দেশ্যে মুসলিম সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি ঘোড়ার পিঠে আরোহণের মতো শক্তি তার ছিলো না। লোকেরা তাকে একটি তাবুতে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি কান্না শুরু করেন। নিজেকে ভর্সৎসনা করে বলতে থাকেন, আমার শরীরে কল্যাণকর কিছু থাকলে আজ আমি জ্বরে আক্রান্ত হতাম না…।

মালিক ইবনে দিনার রহ. এর বিখ্যাত উক্তি:

১. মানুষের অন্তরে দুনিয়ার ভালোবাসা প্রবল হলে ওয়াজ-নসীহত কোন ফল দেয় না।

২. কারও নিকৃষ্ট হওয়ার জন্য এটুকু যথেষ্ট যে, সে নিজে নেককার নয় আবার নেককারদের সমালোচনায় লিপ্ত।

দ্বিতীয় হিজরী শতকের মধ্যবর্তী সময়ের বিখ্যাত বুজুর্গ হলেন, উতবা আল-গোলাম  রহ.। তিনি অধিক ইবাদত, কান্নাকাটির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। আল্লাহর ভয় ও তাকওয়ার দিক থেকে তাঁকে হাসান বসরী রহ. এর সঙ্গে তুলনা করা হতো।

হিলয়াতুল আউলিয়াতে ইমাম আবু নুয়াইম ইস্পাহানী রহ. বর্ণনা করেন, ইমাম উতবা বলেন, আমার জন্য এমন একটি ঘোড়া ক্রয় করো, যেটা দেখে মুশরিকরা হিংসায় জ্বলতে থাকবে। তিনি শামের বিভিন্ন অঞ্চলে জিহাদে অংশগ্রহণ করেন।

উতবা রহ. এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছেন বিখ্যাত বুজুর্গ আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যায়েদ।  [হিলয়াতুল আউলিয়া, খ.৬, পৃ.১৬০, ১৬২]

আব্দুল ওয়াহিদ বিন যায়েদ রহ. এর বিখ্যাত উক্তি রয়েছে,

لكل طريق مختصر و مختصر طريق الجنة الجهاد

অর্থ: প্রত্যেক রাস্তার শর্টকাট (সংক্ষিপ্ত রাস্তা) থাকে। জান্নাতে যাওয়ার সংক্ষিপ্ত রাস্তা হলো জিহাদ

[হিলয়াতুল আউলিয়া, খ.৬, পৃ.১৫৭]

ইব্রাহীম ইবনে আদহাম রহ. [মৃত:১৬২ হি:]

============

দুনিয়ার সকল ঐশ্বর্য পায়ে দলে যিনি আল্লাহর পথিক হয়েছিলেন। রাজ সিংহাসন পরিত্যাগ করে যিনি দরবেশী গ্রহণ করেন। ইতিহাসের সেই অমর ব্যক্তিত্ব ইব্রাহীম ইবনে আদহাম রহ. শুধু বুজুর্গই ছিলেন না, আল্লাহর পথের অকুতোভয় মুজাহিদও ছিলেন।

ইমাম ইবনে আসাকির রহ. তার সম্পর্কে লিখেছেন, “তিনি একজন দু:সাহসী ঘোড়সওয়ার ও অকুতোভয় বীর যোদ্ধা ছিলেন। “

[তাহজিবু তারিখি দিমাশক, খ.২, পৃ.১৭৯]

তিনি বাইজেন্টাইনে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

তার খোদাভীতি ও জুহদ সম্পর্কে প্রশংসা করেছেন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ., ইমাম আওজায়ী, ইমাম সুফিয়ান সাউরী, ইমাম নাসায়ীসহ অন্যান্য ইমামগণ।

ইমাম ইবনে হিব্বান রহ. বলেন,

“ইব্রাহীম ইবনে আদহাম রহ. বলখে জন্মগ্রহণ করেন। এরপরও তিনি হালাল রুজির জন্য শামের উদ্দেশ্যে সফর করেন। সেখানে তিনি আল্লাহর পথে যুদ্ধ ও পাহারায় অংশ গ্রহণ করতে থাকেন।  সীমাহীন  তাকওয়া, খোদাভীতি ও মোজাহাদা ছিলো তার আমৃত্যু ভূষণ। “

ইমাম ইবনে কাসীর রহ.  ও ইয়াকুত হামাবী  তার ইন্তেকাল সম্পর্কে বলেন,

১৬২ হিজরীতে পারস্য সাগরের একটি দ্বীপে তিনি কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বিনিদ্র রজনী  আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দিতে থাকেন। কাফেরদের উদ্দেশ্য তীর উদ্যত অবস্থায় যুদ্ধের ময়দানে তিনি ইন্তেকাল করেন।

[আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খ.১০, পৃ.১৪৫, মু’জামুল বুলদান]

শাক্কীক বালখী রহ. [মৃত:১৯৪ হি:]

=========

বিখ্যাত সুফী শাক্কীক বালখী রহ. এর অমূল্য নসীহত তাসাউফের ভান্ডার সমৃদ্ধ করেছে। তাসাউফের বিখ্যাত এই ইমাম একজন বীর যোদ্ধাও ছিলেন। তাকওয়া, যুহদ ও মোজাহাদায় নিমগ্ন এই বুজুর্গ যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন ইস্পাত কঠিন।  

وروى محمد بن عمران ، عن حاتم الأصم قال : كنا مع شقيق ونحن مصافو العدو الترك ، في يوم لا أرى إلا رءوسا تندر وسيوفا تقطع ، ورماحا تقصف ، فقال لي : كيف ترى نفسك ، هي مثل ليلة عرسك ؟ قلت : لا والله ، قال : لكني أرى نفسي كذلك

তার শিষ্য হাতেম আল-আসম বর্ণনা করেন, “আমরা শাক্কীক বলখী রহ. এর সাথে একই কাতারে তুর্কিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলাম। দিনটি ছিল ভয়াবহ। চারদিকে কর্তিত মস্তক, উড়ন্ত তীর আর তলোয়ার ভাঙার শব্দ।  শাক্কীক বলখী রহ. আামাকে বললেন, হে হাতেম, এই দিনে তোমার অনুভূতি কী? আজকের দিনের অনুভূতি কি তোমার বাসর রাতের অনুভূতির মতো? হাতেম বললেন, আল্লাহর শপথ, না।  শাক্কীক বলখী রহ. বললেন, আল্লাহর শপথ, আমার আজকের অনুভূতি ও আনন্দ বাসর রাতের মতোই।

[সিয়ারু আ’লামিন নুবালা]

তিনি  ১৯৪ হি: সনে কুমলানের যুদ্ধে ইন্তেকাল করেন।

[সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, খ.৬, পৃ.৩১৩, তাহজীবু ইবনে আসাকির, খ.৬, পৃ.৩৩৫, হিলয়াতুল আউলিয়া, খ.৮, পৃ.৬৪]

------ ------

এই বিষয়ে আরও জানতে চান?

আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।

নির্ভরযোগ্য গোপনীয় দ্রুত উত্তর

মন্তব্য 0

আপনার মন্তব্য জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্যকারী হোন! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।

লেখকের আরো ব্লগ

আক্বিদা

সালাফী আক্বিদা কেন বাতিল এবং সালাফীরা কেন পথভ্রষ্ট?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 71
আক্বিদা

মিলাদ ইত্যাদি নিয়ে এতো এতো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, এটা ছেড়ে দিলে সমস্যা কোথায়?

ইজহারুল ইসলাম · 14 মার্চ, 2026 · 78
ফিকহ

তারাবীর নামাযের ইমামতির হাদিয়া গ্রহণ: শরয়ী দৃষ্টিকোণ

ইজহারুল ইসলাম · 13 মার্চ, 2026 · 683
আক্বিদা

ইবনে উমর রা: এর শানে ইবনে তাইমিয়ার বেয়াদবি ও শিরকের অপবাদ (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম · 30 জুন, 2023 · 81